
ফাতেহ ডেস্ক
ক্যালেন্ডারের ১২ পাতা ঘুরে শুরু হয়েছে নতুন দিন। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চকবাজারে চুড়িহাট্টায় ঘটে ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সেই ট্র্যাজেডির এক বছর হতে চলল। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭১ জন। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের মধ্যে ৪ জনের মরদেহ নিয়ে গিয়েছিলেন স্বজনরা। বাকি ৬৭ জনের পরিবারেরই দিন কাটছে চরম আর্থিক কষ্টে। সরকারি আশ্বাসের ক্ষতিপূরণ বা চাকরি পায়নি কেউ। এ অবস্থায় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দাবি ভুক্তভোগীদের।
নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি ও বাসস্থানের আশ্বাস দেন তখনকার ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন। তবে কোনো আশ্বাসই পূরণ হয়নি।
নিহত শাহিন মোল্লার স্ত্রী ময়না বেগম বলেন, গত বছরও ছিলাম ফ্ল্যাট বাসায়। কিন্তু স্বামী শাহিন মোল্লার মৃত্যুর পর এখন ঠিকানা এই এক রুমের সাবলেটে। চুরিহাট্টার আগুনের সাথে পুড়ে গেছে সব স্বপ্ন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত তিনি।
নিহত রাজু ও রানার বাবা সাহেব উল্লাহ বলেন, দুই ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা তাদের বৃদ্ধ বাবা। মেয়রের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ছোট ছেলের একটি চাকরি হলে পরিবারে কিছুটা হলেও সচ্ছলতা ফেরার আশা তার।
ক্ষতিপূরণ ও চাকরির প্রত্যাশার পাশাপাশি তাদের দাবি পুরান ঢাকায় যেন আর কোন কেমিক্যাল কারখানা না থাকে।
শুধু ময়না বেগমেরই নয়, স্বপ্ন পুড়েছে আরো অনেকের। আরো এক হতাহতদের পরিবারের সদস্য বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমার ব্যবসা। সব হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি।
চুরিহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগে। প্রথমে একটি গাড়ি থেকে তারপর রেস্টুরেন্টে এবং আশেপাশের ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পুড়ে যায় অসংখ্য দোকানপাট-গুদামসহ শত কোটি টাকার সস্পদ। কিন্তু কতজন যে দৌড়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন তার সঠিক সংখ্যা জানা নেই কারো। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ধুঁকছেন শরীরে পোড়া নিয়ে কেউ গ্রামে গিয়ে আর ফেরেননি ফেরার ইচ্ছাও নেই তাদের।
প্রসঙ্গত পুরান ঢাকার নিমতলীতে ২০১০ সালের ৩ জুন কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রাণ হারান ১২৩ জন। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পুরান ঢাকার এসব কেমিক্যাল কারখানা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে।
-এ
