
ফাতেহ ডেস্ক
করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যাহত হচ্ছে দেশের দুই মেগা প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতু ও পদ্মা রেল লিঙ্ক প্রজেক্টের কাজ। চীনের যে প্রকৌশলীরা দেশে গিয়েছেন তারা ফিরতে পারছেন না, আবার প্রয়োজনীয় উপকরণও আনা যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় কাজের গতি অব্যাহত রাখতে দেশে থাকা চীনা কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের কথা বলছে দেশটির দূতাবাস। চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। তাই দ্রুত সব বিমান ও স্থলবন্দরে স্ক্রিনিং মেশিন বসানোর পরামর্শ তাদের।
দেশের মেগা দুই প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতু ও পদ্মা রেল লিঙ্ক প্রকল্পের কাজ চলছে চীনের তত্ত্বাবধানে। পদ্মা সেতুর কাজ করছে চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি আর রেলের কাজ করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড। এ দুটি প্রকল্পে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের পাশাপাশি কাজ করছে প্রায় ১৭শ চীনা নাগরিক।
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে থমকে যাচ্ছে চীনের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো। বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রকল্পের ভাগ্যে কি আছে?
বিষয়টি চীনেরও মাথা ব্যথার কারণ। বুধবার (০৪ মার্চ) বিষয়টি নিয়ে আশ্বস্ত করেন দুই প্রকল্পের শীর্ষ কর্তারা।
পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক লিউ জিয়ানহুয়া বলেন, পদ্মাসেতুকে এখন পর্যন্ত চীনের কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। কোনভাবে যাতে ভাইরাস প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা পুরো সতর্ক। কাজের গতি ধরে রাখতে সবার সবধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ওয়াং কুন বলেন, আমাদের দুই প্রকল্পের কাজ কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। কারণ কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চীনে কাজ করছে না। পাশাপাশি যারা ছুটিতে গেছেন তারা আসতে পারছেন না। স্থানীয় দক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে আমরা কাজ এগুনোর পরিকল্পনা করছি।
বর্তমানে চীনে ছুটিতে থাকা ২৬৫জন কর্মকর্তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে না। জানুয়ারিতে যারা ফিরেছেন, এরকম কর্মকর্তারা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষ করে ইতোমধ্যে কাজে যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশও ঝুঁকিমুক্ত নয় জানিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে চায়না রাষ্ট্রদূত লি জিমিং দিলেন পরামর্শ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চায়না রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, এদেশে চীনের যে নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের মেয়াদ বাড়াতে সরকারকে আহবান জানাচ্ছি। ভারত মধ্যপ্রাচ্যের সাথে যোগাযোগের কারণে বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস ঝুঁকিমুক্ত নয়। নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশকে কিছু পরামর্শ দিতে চাই। অবশ্যই বিমানবন্দর-স্থলবন্দরে আজই স্ক্রিনিং এর আওতায় আনতে হবে। ভিসা বন্ধ কতে হবে। যেকোন গণজামায়াত বন্ধ করতে হবে।
পদ্মা সেতুর ৪১ টি স্প্যানের মধ্যে ৩৭টি দেশে, ২টি মংলা বন্দরে হলেও বাকি ২টি স্প্যান চীন থেকে দেশে আনা যাচ্ছেনা।
-এ
