দিল্লির সহিংসতা ও সিএএ নিয়ে ব্রিটেনের উদ্বেগ

ফাতেহ ডেস্ক

ভারতের রাজধানী দিল্লির সাম্প্রতিক সহিংসতা ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (‘সিএএ’) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ব্রিটিশ এমপিরা।

দিল্লির সহিংসতায় প্রাণহানি ও সম্পদহানি নিয়ে বিরোধীদল লেবার পার্টির সদস্য পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খালিদ মাহমুদ গত (মঙ্গলবার) হাউস অব কমন্সে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দফতরের প্রতিমন্ত্রী নাইজেল অ্যাডামস বলেন, ‘‘মানবাধিকারসহ সব বিষয় নিয়ে আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। ব্রিটিশ সরকার সিএএ’র সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যথেষ্টই উদ্বিগ্ন।’

ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডামস বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে ব্রিটেনের সুসম্পর্ক রয়েছে। সেজন্য ওদের সঙ্গে সব পর্যায়েই যোগাযোগ রয়েছে। ফলে আমরা অনেক জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারি। সংখ্যালঘুদের অধিকারসহ যেসব বিষয় নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে, তা জানাব।’

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আরেক এমপি নুসরত গণি বলেছেন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই উদ্বেগের কথা যেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, শিখ বংশোদ্ভূত লেবার পার্টির এমপি তনমনজিৎ সিং জানান, উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সাম্প্রতিক সহিংসতা ১৯৮৪ সালে দিল্লির শিখ দাঙ্গার বেদনাদায়ক স্মৃতিকে উস্কে দিয়েছে। তিনি বলেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা মুসলিমদের উপরে নিপীড়ন সম্পূর্ণ অসহ্য। অনেক সমাজকর্মী পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের হয়রানির জন্য অভিযুক্ত করেছেন। সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এক্ষেত্রে ভারত সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, অনেক এমপিই তা সরকারের কাছে জানতে চান।

স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির এমপি ডেভিড লিন্ডেন বলেছেন, মোদি এবং ট্রাম্প দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির জন্য লড়াই করছেন। তিনি ব্রিটিশ সরকারকে আবেদন করেন যাতে বাণিজ্য চুক্তির কারণে মানবাধিকার রক্ষায় ব্রিটেনের প্রতিশ্রুতি হ্রাস পাবে না তা নিশ্চিত করার জন্য।

জবাবে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডামস বলেন, যতই আমাদের দেশের অর্থনীতি ও অগ্রগতির জন্য বাণিজ্য চুক্তি জরুরি হোক না কেন, আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি যে মানবাধিকার রক্ষায় দেশের অঙ্গীকার সর্বদা বাণিজ্য চুক্তির ঊর্ধ্বে থাকবে।

দিল্লির সহিংসতা প্রসঙ্গে কনজারভেটিভ পার্টির এমপি রিচার্ড গ্রাহাম বলেন, বিভিন্ন ভিডিওতে প্রকাশ এটি একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রযোজিত সহিংসতা। তিনি ভারতের হাইকমিশনারকে ব্রিটেনে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে এই সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে বলেন।

-এ

আগের সংবাদযুদ্ধ এড়াতে পুতিন ও এরদোয়ান শীর্ষ বৈঠক
পরবর্তি সংবাদকরোনার ভয়ে পার্টিতে গোমূত্র, গোবরের কেক খাওয়াবে হিন্দু মহাসভা!