
ফাতেহ ডেস্ক
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতেই কভিড-১৯ করোনা এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। দেশটির স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইতালিতে ১৯৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই মরণঘাতী ভাইরাস, আর আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬শ জনের বেশি মানুষ।
প্রাণঘাতী কভিড-১৯-এ বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪শ ৬৬ জনে। নতুন করে ইরানে ১৬ জন, স্পেনে ৫ জন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে দুই জন করে এবং যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ জন করে মারা গেছেন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। নেদারল্যান্ডসেও মিলেছে প্রথম মৃত্যুর তথ্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৩ থেকে ৪ শতাংশ, যা মৌসুমী ফ্লুর চেয়ে বেশি।
এরই মধ্যে ৯৬ দেশ ও অঞ্চলে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে অন্তত এক লাখ দুই হাজার মানুষ। কোস্টারিকা, কলোম্বিয়া, পেরু আর্ভিয়া, স্লোভাকিয়া ও ভ্যাটিকানে প্রথম কভিডে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও, শনাক্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চিলিতে।
বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য সংকলিত করে রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বে কভিড-১৯-এ এক লাখ ৩০০ এর বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।
ভাইরাস মোকাবিলায় ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এ বিষয়ক একটি বিলে সই করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনুদানের ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে গবেষণায়। প্রতিষেধকসহ বিভিন্ন খাতে খরচ হবে বাকি অর্থ।
এদিকে, ভাইরাস আতঙ্কে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে নোঙর করা প্রমোদতরী গ্র্যান্ড প্রিন্সেস জাহাজে আটকা পড়েছে সাড়ে তিন হাজার মানুষ। এই প্রমোদতরীর আগের সমুদ্রযাত্রায় এক যাত্রী মারা গেছেন এবং চারজন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
জানা যায়, প্রমোদতরীর যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জনের ফ্লুর উপসর্গ দেয়ায় সেটিকে সান ফ্রান্সিসকো বন্দরে ফিরতে দেয়া হচ্ছে না। যাত্রীদের পরীক্ষা করার জন্য সাগরে থাকা এই প্রমোদ তরীতে কিট পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর তা বিশ্বের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত যতজন এই ভাইরাসে মারা গেছে বা আক্রান্ত হয়েছে তার অধিকাংশই চীনে। দেশটির মূল ভূখণ্ডে মারা গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষ।
-এ
