মাদানী ও ভাসানী হবার স্বপ্ন দেখতেন খালেদ মাহমুদ

আবদুর রহমান রাফি :

সিরাজগঞ্জ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চার মাদরাসা ছাত্রের একজন খালেদ মাহমুদ। পড়াশোনা ও লেখালেখির পাশাপাশি খালেদ মাহমুদ ছিলেন বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী। মাথায় কালো কাপড় বেঁধে মিছিলের প্রথম সারিতেই থাকতেন তিনি। শুধু মিছিলে অংশগ্রহণই নয়, আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষকতাতেও তিনি বিশেষ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। খালেদ মাহমুদের ভূমিকার কথা জানতে আমরা সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে অবস্থানরত নাসির আবদুল্লাহ ও কোটা আন্দোলনের নেতা আকরাম হুসাইনের সাথে কথা বলেছিলাম।

সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রায় দুই মাস ধরে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র নাসির আব্দুল্লাহ। খালেদ মাহমুদের ভূমিকার প্রশ্নে তিনি বলেন, খালেদ প্রত্যেকটা প্রোগ্রামেই আসতো। প্রোগ্রামগুলো নিয়ে চিন্তাও করতো। আমরা চেয়েছিলাম, বাংলাদেশের সব অঙ্গনে সীমান্ত হত্যা বিরোধী প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ুক। খালেদ মাদরাসার ছাত্র হিসেবে মাদরাসা সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথে আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেছিল।

খালেদ মাহমুদ মৃত্যুর কিছুদিন আগে ফেসবুক পোস্টে লেখেন,

‘মনে রাখবেন, মাঠে না নামলে কখনো বিপ্লব হয় না। আপনি যতো বড়ো জ্ঞানীই হোন, যতো জ্ঞানের কথাই পোস্ট করেন,মাঠে নাইমা কাজ না করলে মুক্তি কখনোই হাসিল করতে পারবেন না। নাসির ভাইরে দেখেন,কোন পুঁথিপত্র না,কোন আঁতেলেকচুয়ালিটির চর্চা না,সরাসরি মাঠে নাইমা আসছেন। আজ পঁয়ত্রিশ দিন ধইরা লোকটা খোলা আকাশের নীচে। এতে যে ফল পাওয়া গেছে,আপনার দশটা পোস্টেও মানুষের মধ্যে এতো জাগরণ সৃষ্টি করা সম্ভব হইতো না।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আকরাম হুসাইন বলেন, প্রথমে আমরা সামান্য কিছু বিছিয়ে অবস্থান করছিলাম। পরে খালেদ ভাই নিজে থেকেই একটা বিছানা নিয়ে এলেন। পরদিন তিনি আরেকটি বিছানা এনে বললেন, তোমাদের সাথে আরও কত মানুষ বসে, এক বিছানায় কি হয়? এজন্য আরেকটা বিছানা নিয়ে এলাম।

নাসির আবদুল্লাহ বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় খালেদের দেশপ্রেম। আসলে এমন দেশপ্রেমের কোন তুলনা হয় না। আমরা তো ভাবতাম যে, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বুঝি দেশপ্রেম তৈরী হয়। খালেদ আমাদের ভুল ভাঙ্গিয়ে দিয়েছিল। মিছিলের সময় ও লুঙ্গি পরেই চলে আসতো আর বলতো আমি মাওলানা ভাসানী হতে চাই। হুসাইন আহমদ মাদানী হতে চাই।

একপর্যায়ে নাসির আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, এখন আমি যে বিছানায় বসে আছি, সেটাও খালেদের। ও প্রায়ই এসে জিজ্ঞাসা করতো-ভাই কিছু খাওয়া হয়েছে? চলেন কিছু মুখে দিয়ে আসি। আমরা এই সড়কদূর্ঘটনায় অনেক বেশি মর্মাহত। খালেদের বুকে অনেক স্বপ্ন ছিল,কিন্তু স্বপ্নগুলো আর বাস্তবায়িত হওয়ার সুযোগ পেল না।

আগের সংবাদবিশ্বে করোনা ছড়ানোয় চীন-ইরানকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র
পরবর্তি সংবাদকরোনা ভাইরাস নিয়ে ভিডিও বার্তায় যে পরামর্শ দিলেন আল্লামা তাকি উসমানী