
ফাতেহ ডেস্ক: আমদানি যে হারে বাড়ছে, সে হারে বাড়ছে না রপ্তানি আয়। আমদানির আড়ালে অর্থপাচার হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ে এক সম্মেলনে তিনি এ নির্দেশ দেন। এ সময় ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিতের তাগিদ দেন তিনি।
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েই চলেছে। গত অর্থবছরের ১১ মাসে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ২৫ ভাগ। অথচ রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি আট ভাগের কম। এসময় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে হয়েছে ১৭২২ কোটি ডলার।
রূপপুর, পদ্মাসেতুর মতো বড় প্রকল্পের কাজ চলায় মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বাড়ছে। তাই এ ধরনের আমদানি বাড়াকে অর্থনীতিতে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হয়।
সাধারণত আমদানি ব্যয় বাড়লে রপ্তানি আয়ও বাড়ে। তবে এমনটা না হওয়ায় ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা অনেকের। তাই এ ব্যাপারে ব্যাংকারদের সজাগ থাকার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের।
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির বলেন, আমাদের দেশে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বাড়ছে যা অর্থনীতির জন্য অবশ্যই ভালো। এতে বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু এ সব আমদানির নামে অন্য খাতে অর্থ পাচার হচ্ছে কিনা, সে দিকটা লক্ষ্য রাখতে হবে।
গভর্নর জানান, প্রতি বছর অন্তত ২ থেকে ৪ শতাংশ করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেও কাজ করতে হবে।
গভর্নর আরো বলেন, ১৯৯০ সালে আমাদের বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ৯ দশমিক ৮ ভাগ। এটা এখন দ্বিগুণ হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় আমরা এখনো এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছি। এজন্য অবকাঠামো উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ব্যাংকের কার্যক্রমে গ্রাহকরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। এ জন্য আর্থিক খাতকে সুশৃঙ্খল রাখার তাগিদ দেন তিনি।
