মসজিদই হচ্ছে হাজিয়া সোফিয়া!

ফাতেহ ডেস্ক:

বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য হাজিয়া সোফিয়া মসজিদ হবে নাকি জাদুঘরই থাকবে- এ নিয়ে তুরস্কের আদালতে মামলা দোদুল্যমান। তবে এবার এক পাশের পাল্লা ভারি করে দিলো তুর্কি আদালত। শুক্রবার তারা হাজিয়া সোফিয়ার জাদুঘরের কার্যক্রম প্রত্যাহার করেছে। ফলে স্থাপত্যটির মসজিদ হওয়ার সম্ভাবনা আরো বেড়ে গেলো।

সম্প্রতি জাতিসংঘের বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হাজিয়া সোফিয়াকে জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় তুর্কি সরকার। কিন্তু জাদুঘর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এনজিও তুর্কি আদালতে এ বিষয়ে মামলা করে বসে।

আল-জাজিরার বরাতে জানা যায়, গত ৫ জুলাই এই মামলার শুনানি হয়। পরে আদালত ১৭ জুলাই এই মামলার রায় প্রকাশের দিন ধার্য করে।

তবে আজ শুক্রবার হাজিয়া সোফিয়া জাদুঘরের বৈধতা প্রত্যাহার করে তুর্কি আদালত জানায়, চুক্তি অনুযায়ী হাজিয়া সোফিয়া স্থাপত্যটি অন্য কোনো পরিচয় বহন করলে তা বৈধ হবে না।

আল-জাজিরা বলছে, আদালত মূলত ১৯৩৪ সালের একটি চুক্তির কথা বলছে। সে সময় আধুনিক তুরস্ক যাত্রা শুরু করলে তৎকালীন মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়, হাজিয়া সোফিয়া মসজিদ থাকবে। কিন্তু পরে সে সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।

হাজিয়া সোফিয়া নির্মাণ হয় ৫৬৭ সালে। বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টেনিয়ানের তত্ত্বাবধানে এটি নির্মাণ করা হয়। সে সময় এটি চার্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পরে ১৪৫৩ সালে অটোম্যান সম্রাট মেহমেদ ওই এলাকা দখলে নিলে তা মসজিদে রূপান্তর করা হয়। এরপর ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত বিখ্যাত এই স্থাপত্য মসজিদ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে।

এই স্থাপত্য মূলত তার বড় গম্বুজের জন্য বিখ্যাত। নির্মাণের পর এটিই ছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিল্ডিং, যা আজও পৃথিবীর অগণিত পর্যটনপ্রেমীকে আকর্ষণ করে। একে বাইজেন্টাইন স্থাপত্যশিল্পের সবচেয়ে সুন্দর নমুনা হিসেবে দেখা হয়। এর নির্মাণের পরই বিশ্বের স্থাপত্যশিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে।

আগের সংবাদসাহারা খাতুনের মরদেহ দেশে, দাফন হবে বনানীতে
পরবর্তি সংবাদমুসলিমদের করোনায় আক্রান্ত করার আহ্বান নব্য নাৎসিদের