
ফাতেহ ডেস্ক:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডকে পুলিশের আত্মরক্ষার আইনি সুবিধার অপপ্রয়োগ এবং অপেশাদারি আচরণ বলে চিহ্ণিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হত্যাকাণ্ড পুলিশের প্রস্তুতিহীন ও হঠকারী আচরণ। যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহির অভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এসব বন্ধে কমিটি ১৩ দফা সুপারিশও করেছে।
গত ৩১ শে জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান।
এই হত্যার ঘটনা তদন্তের জন্য গত ১ আগস্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়। কাজ শুরুর পর ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। পরে তিন দফায় সময় বাড়িয়ে ৭ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
৬৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে দীর্ঘ জেরা করে কমিটি। দফায় দফায় ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেন সদস্যরা । অবশেষে সোমবার ৮০ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনসহ ৫৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে দেয়।
কমিটি ঘটনার উৎস ও কারণ উদ্ঘাটনে, কোন তথ্যের ভিত্তিতে বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলী তল্লাশিচৌকিতে অবস্থান নিলেন? তিনি কি প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করেছিলেন? তদন্তকেন্দ্রের প্রধান হিসেবে তিনি অন্য সংস্থার সহযোগিতা ও যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কি না ? সবমিলিয়ে এমন ১১টি বিষয় হাতে নিয়ে তদন্ত কাজে নেমেছিল কমিটি।
প্রতিবেদন বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফে বিভিন্ন সংস্থার ব্যাপকভাবে গুলিবর্ষণের কারণে লিয়াকতের মনে এ ধরনের অসংবেদনশীল মানসিকতা তৈরি হয়েছে। আত্মরক্ষার আইনের ব্যাপারে তাঁদের স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও আত্মরক্ষার অজুহাতে তাঁরা গুলি করেন। এসব গুলিবর্ষণের ঘটনা যাচাই করে কমিটি দেখতে পায়, বেশির ভাগ ঘটনার নির্বাহী তদন্ত হয়নি।
যেগুলোর হয়েছে তাতেও পুলিশ প্রবিধান মানা হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে কমিটি সন্দেহ প্রকাশ করেছে। কমিটি বলেছে, এভাবে ব্যক্তিবিশেষ আইনি বিধানের অপপ্রয়োগ করে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়েছেন। লিয়াকতের গুলিবর্ষণ সেই প্ররোচনারই ফল। কমিটি বলেছে, লিয়াকতের এমন কর্মকাণ্ড অপেশাদারি, খামখেয়ালি, রহস্যজনক ও প্রশ্নসাপেক্ষ। প্রতিবেদনের নানা বিষয় নিয়ে বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ হত্যার ঘটনাটি তাৎক্ষণিক নাকি পরিকল্পিত-এ প্রশ্নের মীমাংসা করতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি।
এছাড়া লিয়াকতের এই গুলিবর্ষণ নিছক আত্মরক্ষার জন্য ছিল, না নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য আছে, বিষয়টি কমিটিকে ভাবিয়ে তুলেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
