
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি জোট বেঁধেছেন বামদের সঙ্গে। তাই ‘ভারসাম্য রাখতে’ পুরোনো মতান্তর ভুলে হিন্দু সংহতিও সন্ধি করেছে বিজেপির সঙ্গে। মাস দুয়েক আগেও হিন্দু সংহতির চোখে বিজেপি ছিল ‘সংশোধনবাদী’। হিন্দুত্বের লাইন থেকে বিজেপি সরে এসেছে বলেই অভিমত ছিল হিন্দু সংহতির নেতাদের। তাই পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের ‘স্বার্থ রক্ষার’ জন্য একুশের বিধানসভা ভোটে আলাদা করে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা। সংগঠনের শীর্ষ নেতা দেবতনু ভট্টাচার্য কার্যত ‘জন সংহতি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল খুলে ঘোষণাই করে দিয়েছিলেন, বাংলার বহু আসনে তাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দিতে চলেছেন।
হঠাৎই সব সমীকরণ উল্টেপাল্টে গেল সংযুক্ত মোর্চার ব্রিগেডে ‘ভাইজান’-এর ‘ভাগিদারি’র ডাক শোনার পর। ফল? রবিবার বিজেপির আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর দেখা গেল সেখানে জ্বলজ্বল করছে হিন্দু সংহতির সুপ্রিমো দেবতনুর নাম! জন সংহতি নয়, তিনি আমতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটেই লড়ছেন।
অনেক দলবদলুকেই এ বার বিজেপি টিকিট দিচ্ছে। তবে দেবতনুকে নিছক দলবদলু বলতে রাজি নন গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। কারণ, উনি আর পাঁচজনের মতো দলবদল করেননি। গোটা দল নিয়েই দেবতনু বিজেপির দরজায় হাজির হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। দেবতনুও ‘দলে থেকে কাজ করতে পারছি না’ বা ‘দমবন্ধ হয়ে আসছে’ গোছের যুক্তি সাজাননি বিজেপির টিকিট হাতে পেয়ে। দেবতনুর কথায়, ‘পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির রাজনীতিতে প্রবেশ সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে। তাই এই মুহূর্তে বিজেপির হাত শক্ত করাই সব থেকে প্রয়োজনীয়। আপাতত বিধানসভা ভোট পর্যন্ত এই বোঝাপড়া থাকবেই।’ সূত্রের খবর, বিজেপির প্রার্থী তালিকার পরবর্তী কিস্তিগুলিতে ঠাঁই পেতে পারেন হিন্দু সংহতির আরও কয়েক জন।
রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘তপন ঘোষের হিন্দু সংহতি কখনও ভোটে লড়েনি। ফলে হিন্দু সংহতির সমর্থকদের ভোট বিজেপির ঝুলিতেই আসত। কিন্তু এ বার দল গড়ে বিধানসভায় ভোটে লড়ার কথা বলে আমাদের চিন্তায় ফেলেছিলেন দেবতনু। সেই বিপদ আমরা কাটিয়ে উঠেছি।’ রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর বক্তব্য, ‘দেবতনুদার সঙ্গে সঙ্ঘ পরিবারের সম্পর্ক বহু বছরের। ওর বিজেপি প্রার্থী হওয়ার মধ্যে আশ্চর্যের কিছু নেই। আমরা সম মনোভাবাপন্ন।’
সূত্র: এই সময়
