
ইসমাইল রফিক:
সভ্যতার বিভ্রাট
পিছনে তোমার মরুনক্ষত্রের রুপোলী আগুনভরা রাত
তুমি হেঁটে চলো যেখানে গভীর অসুখে নিমজ্জিত তিমির।
ধূসর পৃথিবী তোমার; কুলিনতা পেয়েছে আঘাত
সৃষ্টির নেপথ্য ইতিহাস ছিলো তোমার কতটা সুনিবিড়।
দু’পাশে তোমার ছড়ানো এখন সভ্যতার বিভ্রাট
বাঁচার তাগিদে ঠেলে যাও অন্ধকার, খোঁজো ছায়ানীড়।
কতটুকু আর ঠেলা যায় যে পথ আটকায় শিশপ্রাচীর,
জীবিকার ভ্রান্তিতে তোমার হয়নি শেখা জীবনের পাঠ।
কঠিন পাথরে মাথা রেখে তুমি হও বিশ্বাসী অবিকল
রুপোলী নক্ষত্র জ্বলবে আবার, পথের রেখা হবে সরল।
অসুখের সাতকাহন
চোখে ও হৃদয়ে তোর কতটা অসুখ
নিশিথের নিরবতা ভালো করে জানে!
কল্পছোঁয়ায় কার ধরেছো চিবুক
তাহা যদি রটে যায় মানুষের কানে।
করোটির মাঝে তোর কিসের আবাস
কিসে তোর প্রেম জাগে, কিসে হয় লোভ?
কার তরে বুকে জমে বেদনার শ্বাস
জেনে ফেলা মানুষের যদি জাগে ক্ষোভ।
কোন্ পায়ে হেঁটে যাও, ধরো কোন্ হাতে
কবে তুমি গেয়েছিলে অধরার গান!
অতি ক্রোধে কার চোখ নিভৃতে কাঁদে
কি হবে মানুষ যদি করে অনুমান।
দিলে তোর এতো এতো মানুষের ভয়
অথচ ‘মালিক’ দেখে সব কিছু, সব।
করবে জীবন কত আর অপচয়
হে গোলাম, সবখানে জানো আছে রব!
রবের মহিমা
এখানে আকাশ আকাশের পরে একা
যখন ঘুমায় শরতের আলে আলে,
আঙুলের টানে ফোটে বালুচরে রেখা
মোহের বিবাদ পুলকিত দুই গালে।
এখানে নদীর এঁকেবেঁকে ছুটে চলা
বাতাসের ভাঁজে ভাসমান গাঙচিল,
আলোর মিনার বিম্বিত হয়ে জ্বলা
হাতের মুঠোয় বিনোদন এক তিল।
এখানে সবুজ কাশবন কুড়েঘর
টলমল দিঘি, ভেসে থাকা রাজহাস
ঘাসের ওপর জমে কুয়াশার সর
চোখের পাতায় বিস্ময় একরাশ।
সকাল-দুপুর-বিকেলের মহিমায়
আমাদের জাগে— সুখসুখ ফরিয়াদ,
আসলে এসব আকাশওলার রায়
না-হলে কি তবে জীব হতো বরবাদ!?
