কাজাখস্তানের বিক্ষোভ দমনে রুশ সেনা, মস্কোর মতলব কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কাজাখস্তানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমার্ট তোকায়েভ রুশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান। ইতিমধ্যে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন আড়াই হাজার সেনা কাজাখস্তানে পৌঁছেছে। গতকাল বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে আলমাতি বিমানবন্দরের পুনর্দখল নিতে কাজাখ সেনাদের সহযোগিতাও করেছে তারা। রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রভুক্ত পাঁচ দেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার সামরিক জোটের (সিএসটিও) আওতায় সাময়িকভাবে সেনা মোতায়েন করেছে তারা।

কী উদ্দেশ্যে রাশিয়া কাজাখস্তানে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল, বিনিময়ে তারা কী আশা করছে, তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনা মোতায়েনের এ ঘটনায় অনেকে ১৯৬৮ সালে প্রাগে এবং ১৯৫৬ সালে হাঙ্গেরিয়ান বিপ্লব ধূলিসাৎ করতে সোভিয়েত অভিযানের ‘ভয়ংকর পুনরাবৃত্তির’ আভাস পাচ্ছেন। পুতিন সম্ভবত আশা করছেন কাজাখস্তানে পাঠানো সেনারা সে দেশে দ্রুত শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। আর তাতে মস্কোর প্রতি কৃতজ্ঞ ও ঋণী থাকবে কাজাখস্তান।

বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে কাজাখস্তান। রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আবার পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় রাখে কাজাখস্তান। পশ্চিমাদের সঙ্গে কাজাখস্তানের ভালো সম্পর্কে খুশি নয় মস্কো। এমন অবস্থায় কাজাখস্তানে সেনা পাঠিয়ে দেশটির কাছ থেকে কিছু দাবিদাওয়া পূরণ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে মস্কো।

কাজাখ প্রেসিডেন্ট সিএসটিওর কাছে সেনা চেয়ে পাঠানোর পর পরই রাশিয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আরটির এডিটর ইন চিফ মারগারিতা সিমোনিয়ান তেমন আভাসই দিয়েছেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘অবশ্যই আমাদের সহযোগিতা করা উচিত। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া উচিত।’ তিনি যেসব শর্তের কথা বলেছেন, তার মধ্যে রয়েছে কাজাখস্তানে রুশ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়া এবং ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকার করা।

গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়, মস্কোর কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে কাসিম তোকায়েভ যদি বিক্ষোভ নস্যাৎ করে দিতে পারেন, তবে বিনিময়ে রাশিয়াও কাজাখস্তান থেকে কিছু আশা করতে পারে।

তবে কাজাখস্তানে চলমান সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় রুশ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, কাজাখস্তান কর্তৃপক্ষ নিজেরাই এ পরিস্থিতির সামাল দিতে পারত। রুশ সেনারা আদৌ কাজাখস্তান ছাড়বে কি না, তা নিয়েও সন্দিহান যুক্তরাষ্ট্র। ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘সাম্প্রতিক ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, রুশ সেনারা একবার কোথাও ঢুকলে মাঝেমধ্যে তাদের সেখান থেকে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

সূত্র: গার্ডিয়ান, প্রথম আলো

আগের সংবাদকাজাখস্তানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, নিহত ১৬৪
পরবর্তি সংবাদট্রাকচাপায় ভ্যানচালকসহ নিহত ৪