
ফাতেহ২৪ ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের লিখিত পদত্যাগের পর তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭ (খ) ৬ ধারা অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এ মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার পর থেকেই তাঁর ছেড়ে যাওয়া মহাসচিবের পদে কে আসছেন, তা নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনা চলছিল। একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা রুহুল কবির রিজভীর ওপরই আস্থা রাখল বিএনপি।
এর আগে রিজভীকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিচালনা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি।
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচি পরিচালনা এবং গণমাধ্যমে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সামনের সারির নেতা।
একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে টানা প্রায় দুই মাস অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকেও নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক রাজনীতিতে ব্যাপক অভিজ্ঞতাই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রিজভীকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ফখরুলের দীর্ঘ অধ্যায়ের নতুন মোড়
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নতুন মোড় আসে।
২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। পরে ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে দলটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও মহাসচিব হওয়ার আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং পরে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। একই ধারাবাহিকতায় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব থেকে এবার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেলেন রুহুল কবির রিজভী।
তবে রিজভীর এই দায়িত্বকে আপাতত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। চলতি বছরেই বিএনপি জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের চিন্তা করছে। ওই কাউন্সিলে দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর বিএনপির দলীয় কাঠামো এবং সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে পরিবর্তনের আলোচনা আগেই শুরু হয়েছিল। এরই মধ্যে মির্জা ফখরুলের ছেড়ে যাওয়া মহাসচিবের পদে নতুন দায়িত্বশীল নির্ধারণ করল দলটি।
এখন আলোচনায় রয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে কাকে বেছে নেওয়া হবে।
