
সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে নতুন শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তি কার্যকরের আগে সৌদি আরবকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে বলে শর্ত দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্র শাসনের এক কর্মকর্তা।
গত জুলাইয়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারবে। সোমবার চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিলেই পারমাণবিক চুক্তি এগিয়ে যাবে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। তবে সৌদি আরব এখনো এতে যোগ দেয়নি।
২০২৩ সালে সৌদি-ইসরাইল সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
সৌদি আরব এখন ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে একটি ‘অপরিবর্তনীয় পথ’ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
প্রস্তাবিত চুক্তিটির মেয়াদ ৩০ বছর। এর আওতায় সৌদি আরবে এপি১০০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় কয়েক হাজার কোটি ডলার।
তবে চুক্তিটি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে যথেষ্ট কঠোর বিধিনিষেধ নেই।
এসব প্রক্রিয়া পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এটিকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয়।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সৌদি চুক্তিতেও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের ব্যবস্থা রয়েছে।
চুক্তিটি এখন কংগ্রেসের পর্যালোচনায় রয়েছে। ৯০টি অধিবেশন দিবসের মধ্যে কংগ্রেস আপত্তি না জানালে এটি কার্যকর হতে পারে।
চুক্তিটি নিয়ে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সৌদি আরব ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত মেনে নেয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
ফাতেহ২৪ ডেস্ক
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
