দাড়ি নবীর সুন্নত, কটাক্ষ করার এখতিয়ার কারও নেই: সংসদে মনিরুল হক চৌধুরী

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার দৃশ্য
জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় এক সংসদ সদস্য। ছবি: সংশ্লিষ্ট সূত্র

ফাতেহ২৪ ডেস্ক

জাতীয় সংসদে নিজের দাড়ি ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষের অভিযোগ তুলে এর বিচার দাবি করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, এর আগে একটি অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতার প্রথম দিনে একটি গল্পকে কেন্দ্র করে তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। স্পিকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন শব্দ বা বক্তব্য অসংসদীয় হওয়ায় তা বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটি জানার অধিকার সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যেরও রয়েছে।

এ বিষয়ে তিনি ৩০০ বিধিতে নোটিশ দিয়েছিলেন বলেও সংসদে জানান।

দাড়ি নিয়ে কটাক্ষের অভিযোগ

মনিরুল হক চৌধুরীর অভিযোগ, ওই ঘটনার পর নামাজের বিরতির সময় তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়। তাঁর দাবি, তাঁর নিজ দলেরই একজন সংসদ সদস্য তাঁর আচরণ ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ওই মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তাঁকে মানবতাবিরোধী আচরণকারী ও বর্ণবৈষম্যবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দাড়ি নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “দাড়ি কারও ব্যক্তিগত ব্যাপার না, দাড়ি নবীর সুন্নত।” দাড়ি নিয়ে কটাক্ষ করার অধিকার সংসদে কিংবা সংসদের বাইরে কাউকে দেওয়া হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সম্মানে আঘাত করেছে। এ ঘটনার বিচারও দাবি করেন তিনি।

স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক জবাব দাবি

মনিরুল হক চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, ওই দিন তাঁর দাড়ি নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য কটাক্ষ করলেও তাঁর পক্ষে যারা বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন, তাদের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে গেলে সংসদের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। তবে নিজের সম্মান, সংসদের মর্যাদা এবং প্রবীণ সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর অবস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক জবাব চান।

কোন বক্তব্য বা শব্দ অসংসদীয় হিসেবে কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়েও স্পষ্ট জবাব প্রত্যাশা করেন তিনি। এ জন্য ৩০০ ধারায় দেওয়া নোটিশের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন মনিরুল হক চৌধুরী।

অন্যদিকে, পরবর্তী বক্তব্যে স্পিকার জানান, আগের ঘটনাটি যখন ঘটেছিল তখন তিনি সংসদে ছিলেন না। কার্যপ্রণালি বিধি পরীক্ষা করে বিষয়টি দেখবেন এবং সদস্যকে জানানোর মতো কিছু থাকলে জানানো হবে।

সূত্র: সংসদে দেওয়া বক্তব্য; একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

আগের সংবাদ৬৪ জেলায় ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে দায়িত্ব দিল সরকার
পরবর্তি সংবাদকুমিল্লায় খেলাফত মজলিসের উলামা ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত