
কাজী মাহবুবুর রহমান ঃ
প্রবাদ আছে ‘ ঢাকা আজানের শহর।’ সত্যিই ঢাকা আজানের শহর।ঢাকার প্রতিটি অলিগলিতে মসজিদ আছেই। কোনো কোনো রাস্তায় আবার দুই তিনটা মসজিদও আছে। ঢাকার এই রুপ মুগ্ধ করে আমাদের। শত শত বছরের বাঙালী সাংস্কৃতির প্রতীক হয়ে হাজার হাজার মসজিদ বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা।
ঢাকার মসজিদগুলি নির্মাণশৈলীর দিক থেকেও বিচিত্র। পুরাণ ঢাকার অলিগলিতে খুঁজলে শত বছরের পুরনো আদলের মসজিদও চোখে পড়ে। আবার একেবারে আধুনিক শৈলীর চোখ ধাঁধানো মসজিদও আছে বেশ সচরাচর।
ঢাকার মসজিদগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, রাজধানীর জনসংখ্যা বেশী হওয়ায় মসজিদে অংশগ্রহণও বেশী। ফলে দেশের অন্য যেকোন অঞ্চলের মসজিদের চেয়ে ঢাকার মসজিদগুলো তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী জীবন্ত। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরে নফল নামাজ, তাসবিহ পাঠ, ইতিকাফ ও অন্যান্য ইবাদতরত মানুষেরও দেখা মেলে।আবার বছরের বিরাট একটা সময় সব মসজিদেই তাবলীগের জামাত থাকে। এর ফলে মসজিদ আরো ইবাদতমুখর ও জীবন্ত হয়ে ওঠে।
শুক্রবারে দেখা মেলে মসজিদ ও মুসল্লিদের ভিন্ন রুপ। জুমা আদায়ের জন্য প্রতিটি মসজিদেই মানুষের ঢল নামে। ঢাকার মসজিদগুলির প্রায় সবই সর্বনিম্ন তিন তলা অথবা চারতলা বিশিষ্ট। সাততলা আটতলাও আছে। এছাড়া শুক্রবার সব মসজিদের ছাদ খুলে দেয়া হয়। এরপরেও মসজিদে মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান হয় না। অনেক মসজিদের সামনের রাস্তায় জুমার দিনের চিরাচরিত দৃশ্য হল, কিছু মানুষ রাস্তায় চাটাই বিছিয়ে নামাজের কাতার তৈরী করে বসে আছেন। সময় হলে সেখানেই নামাজে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন।
লালবাগে শাহী মসজিদে জুমা আদায় করা হেতু সেখানে দেখতে পাই সত্য ও সুন্দরের একটি বিরাট মিছিল পুরা দুপুরটিকে আলোকিত করে রেখেছে। পরিচ্ছন্ন কাপড়ে সর্বশ্রেনীর মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরম করুণাময়ের সামনে নত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যেন এই মসজিদ একটি জাদুর ঘর। আমরা যত এই ঘরে হাজির হচ্ছি ততই আমাদের ভুলিয়ে দিচ্ছে পরস্পর দ্বন্দ্ব ও বিদ্বেষ।
ঢাকা মুসলিমদের জন্য গর্বের শহর। ঢাকায় এমন কোন অন্ধকার গহীন কোণ নেই, যেখানে আজান পৌছে না।এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আমাদের জীবন্ত করে রাখতে হবে মসজিদের সংস্কৃতি। যেন এই আজান আরো উচ্চ চূড়া হতে ছড়িয়ে যায় আরো দূরে। সারাবিশ্বে।
