ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় তুরস্কের পাশে পাকিস্তান

ফাতেহ ডেস্ক: অর্থনৈতিক সংকটে পড়া তুরস্কের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন পাকিস্তানের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প ‍তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের কারনে এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে দেশটিতে।

মঙ্গলবার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সহমর্মিতার কথা জানান। ইমরান খান বলেন, ‘পাকিস্তানের জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও তুরস্কের জনগণকে জানাতে চাই, গুরুতর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলায় আমার তাদের জন্য দোয়া করছি। নিজেদের মহিমান্বিত ইতিহাসে তারা সবসময়ই বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে সফল হয়েছে।’

এর আগে সোমবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান নীতিগতভাবে যে কোনও দেশের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করে। যে কোনও এবং সব ধরনের সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত সংলাপ, দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়া ও কল্যাণের মাধ্যমে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর বিপরীতে যে কোনও উদ্যোগ ও পদক্ষেপ শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটি সমস্যার সমাধানকে আরও জটিল এবং এর মোকাবিলা আরও কঠিন করে তোলে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে তুরস্কের অবদানের উচ্চকিত প্রশংসা করা হয়েছে।

তুরস্কে এক মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মযাজককে আটকের ঘটনায় সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুর্কি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

এতে করে তুর্কি লিরার দরপতন ঘটে। এর প্রেক্ষিতেই তুর্কি লিরা’কে শক্তিশালী অবস্থানে নিতে উদ্যোগী হন কর্তৃপক্ষ। জনগণকে তাদের কাছে গচ্ছিত ডলার ও ইউরো ভাঙিয়ে তুর্কি মুদ্রা লিরা গ্রহণের আহ্বান জানান এরদোয়ান।

তুর্কি সরকার বলছে, ওই মার্কিন ধর্মযাজকের সঙ্গে তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী কুর্দি বিদ্রোহীদের সম্পর্ক রয়েছে।

তাকে কেন্দ্র করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বেবার্ট প্রদেশে এক সমাবেশে এরদোয়ান বলেন, ‘আপনাদের যাদের ম্যাট্রেসের নিচে ডলার, ইউরো বা সোনা রয়েছে, তারা ব্যাংকে গিয়ে এগুলো ভাঙিয়ে লিরা করে নিন। এটা হবে যারা আমাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে; তাদের বিরুদ্ধে আমাদের জনগণের উত্তর।’

তিনি বলেন, তুর্কি জনগণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। নেতিবাচক দিকগুলো থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা তুরস্কের রয়েছে। ওয়াশিংটন যদি ‘একলা চলার এবং সম্মান না দেখানোর’ পথ ত্যাগ না করে তাহলে আঙ্কারাও নতুন মিত্র খুঁজে নেবে।

আগের সংবাদ‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর প্রযুক্তি বিশ্বে কারো নেই’
পরবর্তি সংবাদকিশোরগঞ্জের ওজাহাতী জোড়ে পাঁচ সিদ্ধান্ত