কোরবানীর হাট, নানা দিক

কাজী মাহবুবুর রহমান ঃ 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশের সমস্ত কুরবানীর পশুর হাটগুলি জমে উঠেছে৷ বেপারীরা দূর দূরান্ত থেকে এসে ভিড় করেছেন ঢাকায়। আমাদের দুইটি ঈদের দুইরকম আনন্দ। রোজার ঈদে নতুন পোশাক ও রোজা শেষ করে ইফতার করার আনন্দ। আর ঈদুল আজহায় কুরবানীর পশু ক্রয়, জবাই-পূর্ব লালন পালন ও কুরবানী করার আনন্দ।

কুরবানীর ঈদের প্রায় দশদিন আগে থেকেই ঢাকার বিভিন্ন হাটগুলোতে গরু-ছাগল আসতে শুরু করে৷ হাটের ইজারাদারদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। হাটে যেন কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, তাই হাটের আশপাশের রাস্তার মোড়গুলিতে পুলিশের প্রহরা সতর্ক হয়ে ওঠে।

এই বছর ঢাকার গরু বেচাকেনায় এক নতুন সিস্টেম চোখে পড়ছে। অন্যান্য বছরগুলি হাটের বাইরে গরু বিক্রি হলেও তার  পরিমাণ ছিল কম৷ কম। এই বছর বড় হাটগুলি ছাড়াও রাস্তার মোড়ে মোড়ে হাট চোখে পড়ছে। মুহাম্মদপুর থেকে সেকশন পর্যন্ত আসতেই এরকম তিনটা হাট চোখে পড়ল। এখানেও বড় হাটের নিয়মমাফিকই গরু কেনাবেচা হয়। লেনদেনের হাসিল পরিশোধ করতে হয়৷ দেখে মনে হচ্ছে, নতুন এক শ্রেণির ব্যবসায়ীদের হাট ব্যবসার প্রতি মনোযোগ ফিরছে। এতে একদিক থেকে ক্রেতাদের সুবিধা হয়েছে৷ তারা চাইলেই বড় হাট পর্যন্ত না গিয়ে নিজেদের আশপাশ থেকে পশু কিনে নিতে পারবেন৷

এর বড় দুইটি অসুবিধাও আছে। কুরবানীর হাটে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত পশুর দাম দুলতে থেকে। সকালে বাড়ে দুপুর নাগাদ কমে যায়৷ আবার কখনো শুরুরদিকে দাম বেশী থাকে, শেষেরদিকে কমে যায়, এর উল্টোটাও ঘটে। শেষের দিকে এসে গরু সংকট দেখা দেয়, ক্রেতাগন হন্যে হয়ে পশু খুঁজেন, এই সুযোগে বেপারীরা পশুর দাম চড়িয়ে দেন। বড় হাটগুলি থেকে গরু কিনলে বাজাদের দর সম্পর্কে জেনেশুনে সময় বুঝে পশু কেনা যায়৷টেম্পরারি ছোট হাটগুলিতে সেটা সম্ভব না। আবার এভাবে যত্রতত্র হাট বসানো পুরাটাই কি আইনসম্মত নাকি এর ভেতরেও রয়েছে দূর্নীতির অভিশাপ, তাও খতিয়ে দেখা উচিত।

ঈদের আনন্দের আয়োজন করেন বড়রা৷ কিন্তু  আনন্দ উপভোগ করে ছোটরা। গ্রামে থাকাকালীন আমাদের বাডি থেকে প্রায় দশমাইল দূরে মনোহর বাজারে গরুর হাট বসত। মনে পড়ে, আমরা কেবল হাট দেখতেই প্রতিদিন দুপুরের ভাত খেয়ে দশমাইল হেটে হেটে যেতাম।পছন্দের গরুগুলি মার্ক করে আসতাম৷ ভিড় ঠেলে সারা হাট ঘুরে বেড়াতাম৷পরদিন গিয়ে যদি দেখতাম পছন্দের গরুটি বিক্রি হয়ে গেছে তাহলে খুব খারাপ লাগত। অচেনা একটি পশুর জন্য মমতায় মন নরম হয়ে উঠত৷

সে যাই হোক, কুরবানীর পশুর প্রতি ভোক্তার দৃষ্টিপাত না করে মমতার দৃষ্টি দেওয়া উচিত৷ কেননা নিয়তের একটু ত্রুটির কারণে কুরবানী নষ্ট হয়ে যেতে পারে৷ ‘আর আল্লাহ তায়ালার কাছে পশুর রক্ত মাংস কিছুই পৌছায়না৷ পৌছায় কেবল তাকওয়া৷’

আগের সংবাদখুলনার শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম তিনদিনের তাবলীগী সফরে বের হচ্ছেন
পরবর্তি সংবাদমসজিদে আল আকসার ইতিহাস ও জেরুজালেম রাজনীতি