
হাটহাজারী প্রতিনিধিঃ
দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক শাইখুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন,কুরবানী ইসলামের অন্যতম একটি শি’আর বা নিদর্শন ৷ কুরবানীকে যারা পশু হত্যাযজ্ঞের মহোৎসব বলে তারা ইসলাম ও মুসলমানদের চরম দুশমন৷ ২১ ই আগস্ট সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন৷
আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন,কুরবানী বিশ্ব ইতিহাসে এক নজিরবিহীন আত্নত্যাগের ঘটনা৷ মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম আঃ এর প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল আঃ কে আল্লাহর রাহে কুরবানীর স্মৃতি হিসেবে মুসলিম উম্মাহ শতাব্দীর পর শতাব্দী কুরবানীর মহানব্রত পালন করে আসছে৷ এতে কারো কোন আপত্তি ছিলনা৷ কিন্তু বর্তমান সময়ে গুটিকয়েক নাস্তিক মুরতাদ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কুরবানীকে পশু হত্যাযঙ্গের মহোৎসব আখ্যা দিয়ে কুরবানী বন্ধের অপচেষ্টা চালাচ্ছে৷। তাদের এ হীনচেষ্টা ৯২% মুসলমানের দেশে কষ্মিনকালেও বাস্তবায়ন হবে না৷
তিনি আরো বলেন,আল কুরআনের ঘোষণা এবং আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণা এ কথা প্রমাণ করেছে যে, দুনিয়ার বুকে বিচরণকারী প্রাণীতেই কেবল প্রাণ আছে এমন নয়৷ বরং গাছপালা,তরু-লতা,শাক সবজি সহ সবকিছুতেই প্রাণ আছে৷ এর দ্বারা বুঝা যায় শুধু পশু জবেহ করাই জীব হত্যা নয় বরং প্রকৃতির যে কোন বস্তু কর্তন করাই জীব হত্যার শামিল ৷অথচ এটা কোন বিবেক সম্পন্ন মানুষের কথা হতে পারে না৷ কুরবানীকে যারা পশু হত্যার মহোৎসব বলে তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে আল্লামা বাবুনগরী বলেন,কুরবানীর দিন ছাড়াও তো পুরো বিশ্বে দৈনিক লাখ -লাখ গরু,ছাগল জবাই হয়৷লক্ষ-লক্ষ মুরগী জবেহ হয়, শত শত টন মাছ সাগর-নদী থেকে ধরা হচ্ছে ৷ সেগুলোতে কি প্রাণ নেই ?
আল্লামা বাবুনগরী বলেন,হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পাঠা বলি দেয় এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও তাদের ধর্মীয় বিভিন্ন উৎসবে হাজারো প্রাণী জবেহ করে তখন তথাকথিত পশুপ্রেমীরা পশু হত্যাযঙ্গ বলে হৈ হুল্লুড় করে না৷ শুধুমাত্র মুসলমানদের কুরবানীর সময়-ই- তাদের পশুপ্রেম উথলে উঠে৷ তখনই কেবল তারা কুরবানীকে পশু হত্যার মহোৎসব বলে আখ্যায়িত করে৷ এটা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি তাদের বিদ্বেষী মনোভাবের বর্হিপ্রকাশ বৈ কিছুই নয়৷
আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, কোরবানীর পশুর বিপুল পরিমাণ চামড়া দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ৷কোরবানী উপলক্ষে দেশের গরিব দুস্থ মানুষ গরু জবাই করে, গোশত কেটে ও বর্জ্য পরিষ্কার করে একদিনের জন্য হলেও ভাল আয় করে৷ এছাড়াও কুরবানীর আরো অসংখ্য উপকারীতা রয়েছে৷ সুতরাং কুরবানী পশু হত্যাযঙ্গের মহোৎসব নয়, বরং ইসলামের অন্যতম শি’আর হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও এর গুরুত্ব অনেক।
