কুরবানীর চামড়ার মূল্যহ্রাসের প্রেক্ষিতে মাদরাসাগুলো কি ভাবছে?

ওমর ফারুক: 

কুরবানীর পশুর চামড়ার মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশের সকল মাদরাসা মিলে ট্যানারি খোলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রাজধানীর  আকবর কমপ্লেক্স মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি দিলাওয়ার হুসাইন। কুরবানীর পশুর চামড়ার মূল্যহৃাস বিষয়ে মাদরাসাগুলো কী ভাবছে, এ বিষয়ে ফাতেহ২৪ এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুফতি দিলাওয়ার হুসাইন বলেন, মাদরাসার আয় কখনোই চামড়া নির্ভর ছিল না, থাকবেও না। ফলে চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় কওমি মাদরাসার অনেক বেশী ক্ষতি হওয়ারও কোনো আশঙ্কা নেই। যে টাকা চামড়া থেকে আয় হয়, সেটা বাৎসরিক খরচের খুব বড় কোনো অংশ নয়। আল্লাহর রহমতে মাদরাসাগুলো এ ক্ষতি থেকে সেরে উঠতে পারবে বলে আশা করি।

তিনি বলেন, আমি কয়েকটি মাদরাসা পরিচালনা করি। এগুলোর আয়ও চামড়া নির্ভর নয়। আমার পরিচালিত আকবর কমপ্লেক্স মাদরাসার বাৎসরিক ব্যয় আছে প্রায় দুই কোটি টাকা। অথচ গত বছর চামড়া থেকে আমরা পেয়েছি চার লাখ টাকা। কই আল্লাহর রহমতে আমাদের মাদরাসা তো থেমে নেই।

বিকল্প আয় হিসেবে অনেক মাদরাসা-কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের থেকে ৫০০-১৫০০ টাকা আদায়ের বিনিময়ে ছুটি দিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন? তিনি বলেন, কেউ যদি শর্ত করে থাকেন যে, এ অর্থের বিনিময়ে তাদের ছুটি দেওয়া হবে, তাহলে এটি ঠিক নয়। তবে মাদরাসার কল্যাণকামী হয়ে যদি কোনো শিক্ষার্থী মাদরাসার ফান্ডে দান করে তাহলে সমস্যা নেই। এটা হতে পারে। আমি নিজেও আমার মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো শর্তযুক্ত ছুটি রাখিনি। তারা চাইলে মাদরাসার কাজে থাকতে পারে, আবার চাইলে বাড়িও যেতে পারে।

মাদরাসার আয় কুরবানির পশুর চামড়া নির্ভর না হলেও একে তাদের জন্য অনেক সহায়ক বলে মনে করা হয়। এ ক্ষেত্রে সঠিক মূল্য পাওয়ার জন্য কী করা উচিত, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চামড়ার মূল্য মূলত নিয়ন্ত্রণ করে ট্যানারি মালিক সমিতি। তাদের চাহিদা ও চাপের কারণেই সরকার এর মূল্য নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে সকল মাদরাসা মিলে যদি ট্যানারি খুলে যায়, তাহলে আশা করি দাম নিয়ন্ত্রণে তারাও ভূমিকা রাখতে পারবে।