
মাওলানা মাহমুদ মুজিব
এদেশের কওমি মাদরাসাগুলো চলে জনসাধারণের স্বেচ্ছায় প্রদান করা অনুদান এবং মাদরাসা পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টদের চাঁদায়। কওমি মাদরাসার একটি টাকাও হিসাববহির্ভূত নয়। আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং জনসাধারণের কাছে জবাবদিহিতার খাতিরে বছর শেষে অডিটের সুব্যবস্থা রাখা হয়। এতদাসত্তেও মানুষ নামের কিছু কীট কওমি মাদরাসার আয়ের উৎস খুঁজে দিশেহারা হয়ে পড়ে।
তারা হয়তো জানেনা, এদেশের কওমি মাদরাসাগুলো শত শত বছর ধরে মুসলিম জনসাধারণের অকৃত্রিম সাহায্য-সহযোগিতায় চলে আসছে। কখনো সরকারের একটি পয়সার অনুদান পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। সন্দেহ নেই কওমি মাদরাসার আয়ের একটি খাত চামড়া সংগ্রহ। কুরবানী আসলেই কেউ কেউ ভাবেন চামড়ার দাম কমে যাওয়ার কারণে কওমি মাদরাসার আয় কমে যাবে। পক্ষান্তরে কেউ ভাবেন কওমি মাদরাসার আয়ের একমাত্র উৎস কুরবানীর চামড়ার মূল্য। আমার ধারণা, উপরের দুটি ধারণাই ভুল।
বরং আমি মনে করি শুধু চামড়া নয়; সামাজিক আয়ের সব পথই যদি বন্ধ করে দেয়া হয়, তবুও কওমি মাদরাসাগুলোর আয়ে সংকট দেখা দিবেনা। নিকট অতীতে কওমি মাদরাসায় বড় বড় দাতাগোষ্ঠী ও সংগঠনগুলোর অনুদান বলতে গেলে প্রায়ই বন্ধ হয়ে গেছে। তবুও বলতে দ্বিধা নেই, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতেও কওমি মাদরাসাগুলো আগের তুলনায় অনেক অনেক ভালো ও সুন্দর চলছে। একটি পথ বন্ধ হতে পারে। আরো দুটি বিকল্প পথ খুলে যায়। সম্প্রতি চামড়া কালেকশন নিয়ে নানা ধরণের হিমশিম খেতে হচ্ছে মাদরাসাসংশ্লিষ্টদের। এক্ষেত্রে কেউ কেউ বিকল্প চিন্তা করছেন। নিম্নে চামড়া কালেকশনে ভালো দিক, সমস্যা ও বিকল্প চিন্তা তুলে ধরছি।
চামড়া কালেকশনে ভালো দিক:
ক. চামড়া কালেকশন এটি একপ্রকার সামাজিক সেবা।
খ.কুরবানির পশু শরিয়াহ পদ্ধতি অনুযায়ী জবাই ।
গ. বিপুল সংখ্যক পশু জবাই এবং তার চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
ঘ. চামড়া সংগ্রহের মাধ্যমে মাদরাসাগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হয়।
ঙ. জনসাধারণের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার একটা উপায়।
চামড়া কালেকশনে সমস্যা :
ক. অসাধু ব্যক্তিদের কাছে অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে থাকেন।
খ. পরিবারর অন্যান্য সদস্যদের সাথে ঈদ উদযাপন করা যায় না।
গ. সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সাথে কথা কাটাকাটি, ঝগড়ার সম্ভাবনা।
ঘ. মানুষের চোখে মাদরাসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমন্ডলী হালকা হয়ে যায়।
ঙ. কেউ কেউ চামড়া কালেক্ট্ররদের ভিক্ষুকের চোখে দেখে থাকেন।
বিকল্প চিন্তা:
ক. মাদরাসার ছাত্রদের উপর টাকার নির্দিষ্ট একটি অংক ধার্য করে দেয়া।
খ. মাদরাসার হিতাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা।
গ. কুরবানীর আগে মাদরাসার সকলপ্রতিবেশীদের নিয়ে মিটিং করা।
ঘ. কুরবানীর পশুর চামড়া সেচ্চায় মাদরাসায় পৌঁছে দেয়ার আহবান জানানো।
ঙ. সম্ভব হলে ট্যনারী করা।
স্থায়ী প্রকল্প করা।
ক. মার্কেট নির্মাণ করা। খ. ভাড়া বাসা নির্মাণ করা। গ. হসপিটাল /ক্লিনিক চালু করা। ঘ. খামার করা। ঙ. মাছের প্রজেক্ট করা।
সময়ের দাবির ভিত্তিতে হোক বা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে হোক কওমি মাদরাসা আয়ের উৎস হিসেবে কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের বিকল্প খুঁজতে হবে। অথবা সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে কি করা যায় মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের তা ভাবা উচিত।
লেখক পরিচিতি : তরুণ আলেম, সংগঠক ও লেখক। শিক্ষক : জামেয়া দারুল মা’আরিফ আল-ইসলামিয়া, চট্টগ্রাম।
