পানি সংকটে আফগানিস্তান

ফাতেহ ডেস্ক

গ্রীষ্মের খরার পর এবার অপর্যাপ্ত বৃষ্টি আর দূষণের ফলে পানি সংকটে পড়েছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। বাড়তি জনসংখ্যার চাপে নেমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। জলবায়ু পরিবর্তন আর বৈশ্বিক উষ্ণতার মাশুল গুণছে গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত কাবুলবাসী।

দারিদ্র আর গৃহযুদ্ধের কারণে একদিকে গোটা দেশের বাড়তি জনসংখ্যার চাপ বয়ে বেড়াচ্ছে রাজধানী কাবুল। অন্যদিকে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সঙ্গে বাড়ছে পানির চাহিদা।

যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি জরীপ বলছে, গত ৩০ বছরে কাবুলের জনসংখ্যা বেড়েছে ৫০ লাখ। তাই অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে, ১শ ফুট নীচে নেমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর।

সরকারি পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, ভূগর্ভ থেকে প্রতি বছর ৮ কোটি কিউবিক মিটার পানি উত্তোলন হচ্ছে। যা বার্ষিক বৃষ্টিপাত আর প্রাকৃতিক পানির সঙ্কুলানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তাই শীতকালে তুষারপাত শুরু হলেও, বরফ গলা পানি সেই চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

এদিকে, জাতীয় পরিবেশ রক্ষা কমিটি জানায়, ভূগর্ভস্থ পানির ৭০ ভাগই দুষিত। সেপটিক ট্যাঙ্ক আর সুয়ারেজ লাইনে ফাটল থাকায় সব আবর্জনা গিয়ে মিশছে ভূগর্ভে। ছড়াচ্ছে, ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগ। তাই জলাশয়ভর্তি পানি থাকলেও তা ব্যবহার অযোগ্য।
রাজধানীর মাত্র ২০ ভাগ মানুষ সাপ্লাইয়ের পানি পেয়ে থাকেন, আর বাকিদের জন্য আছে ৪শ টি গভীর নলকূপ। বেসরকারি কোম্পানি আর মসজিদ থেকেও পানি সংগ্রহ করছেন অনেকে।

জলাশয়গুলোতে পাম্পের সাহায্যে পানি ভরাটের চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে বেশ কিছু জায়গায় জলাশয় খননের প্রকল্প হাতে নিয়েছে এডিবি। তবে দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান না হলে গ্রীষ্মকালে খরা জর্জরিত এলাকায় বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে।

শ্যানি ক্যাম্পবেল আঞ্চলিক প্রধান, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান শ্যানি ক্যাম্পবেল বলেন, কাবুলের পানির সংকট খুব প্রকট। প্রাকৃতিক দুর্যোগের চাইতে দারিদ্র বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কম খরচে সবার জন্যে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি আমরা।

পয়ঃনিষ্কাশন আর পানির সরবরাহ নিশ্চিতে সরকার পদক্ষেপ নিতে চাইলেও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে সেসব প্রকল্প।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদতুষারপাতে বিপর্যস্ত ইউরোপ
পরবর্তি সংবাদজয় বললেন বড় ব্যবধানের জয় কারচুপির মাধ্যমে সম্ভব না