এরদোগানের বিজয় ও আগামী দিনের তুরস্ক

Turkish President Tayyip Erdogan greets members of parliament from his ruling AK Party (AKP) as he arrives at the Turkish parliament in Ankara, Turkey, July 7, 2018. REUTERS/Umit Bektas

ইমরান চৌধুরী

তুরস্কে রজব তাইয়েব এরদোগানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয় সময়ের প্রয়োজনে অবধারিতই ছিলো। এমন কোন কারণ ছিলোনা যে এই নির্বাচনে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বীর নিকট হেরে তিনি আক সরাই প্রাসাদ ত্যাগ করবেন।

এরদোগানের বিজয় এটা দর্শায় যে, সামনের দিনগুলোতে তুরস্ক অধিক হারে যুদ্ধপ্রবণ হয়ে পড়বে। তুর্কী নেতার সামনে মূল চ্যালেঞ্জ ইতোমধ্যে খানিক দুর্বল হয়ে পড়া কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদকে শেষ করা। সিরিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি সামনের দিনগুলোতে আংগোরাকে সম্ভাব্য অস্থিতিশীল কৃষ্ণ সাগর এলাকায় নিবিড় মনোনিবেশ করতে হবে। অস্থিরতার ঝুঁকিমুক্ত নয় কনস্টান্টিনোপল লাগোয়া বলকান উপদ্বীপও। এই বিষয়গুলোই তুরস্ককে অদূর ভবিষ্যতে যুদ্ধপ্রবণ করে তুলতে পারে।

এহেন পরিস্থিতিতে যেকোন দেশে শক্তিশালী সরকার ও শাসক থাকা জরুরী। কেবল তাই নয়, সবচেয়ে বড় বিষয়, জনগণের উপর ওই শাসকের নৈতিক অধিকার থাকাও জরুরী। সার্বজনীন ভোটের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় এই নিয়ে এরদোগানের অসুবিধার গোনজায়েশ কম, যদিও প্রায় ৫৩ শতাংশ ভোটে জয়ী হওয়া নিরংকুশ ম্যান্ডেট বুঝায় না। তবে এরদোগানের অতীতের নির্বাচনী রেকর্ড বিচার করলে দেখা যায়, তিনি আগের মতোই কনস্টান্টিনোপল ও আংগোরা সহ তুরস্কের মধ্যাঞ্চল, তথা এশিয়া মাইনরে স্বীয় সমর্থন ধরে রাখতে পেরেছেন। ইজমির সহ দেশের ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় তিনি জনরায় পাননি। তবে গতবারের চেয়ে তিনি খানিক বাড়তি জনসমর্থন পেয়েছেন।

তবে সর্বোপরি রজব তাইয়েব এরদোগান একজন প্রজানুরঞ্জক রাজনীতিবিদ। সমর্থক বা জনগণের স্পন্দন বুঝে তাদের চঞ্চল করা এমন রাজনীতিবিদদের সাধারণ প্রবণতা হওয়ায় সত্যিকারের বড় এবং ইতিহাস নির্ধারণী কোন ফয়সালা এদের দ্বারা কম হয়েছে। যাহোক, সেটা পরের কথা। আপাতত এরদোগানের সামনে স্বীয় সীমান্তের চারদিকে জলে, স্থলে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোকে সততার সাথে সামনা করাই হবে মূল করনীয়। এবং ইতিহাস তাঁকে পর্যবেক্ষণে আখেরে কোন ভুল করবে না…।