
হাম্মাদ রাগিব
আজ (৪ ডিসেম্বর) প্রথম আলোর প্রিন্ট সংস্করণের শেষ পৃষ্ঠায় ‘তাবলিগের দুই পক্ষই অনড়’ শিরোনামে তিন কলাম জুড়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিটি জেলা, উপজেলায় সাদপন্থী শুরা সদস্য ওয়াসিফুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন নাসিম, মাওলানা মোশাররফ এবং সাদপন্থী মুরব্বি মাওলানা আশরাফ আলী ও আবদুর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফী। গতকাল এই মর্মে তিনি একটি জরুরি এলান জারি করেন।’নিউজটি পড়ে ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরের বিশেষ প্রতিবেদক হাটহাজারীতে যোগাযোগ করেন। আল্লামা আহমদ শফীর একান্তজন মাওলানা হাসান আনহারের কাছে নিউজটির সত্যতার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘শায়খের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো ঘোষণা যায়নি। যারাই নিউজটি প্রচার করছেন, ভুয়া নিউজ প্রচার করছেন।’ আরও নিশ্চয়তার জন্য তিনি আহমদ শফী-পুত্র আনাস মাদানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে দেওয়া তাঁর একটি বিবৃতি ফাতেহের হস্তগত হয়। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘এমন কোনো নির্দেশনা আল্লামা শফী এবং হাইয়াতুল উলয়ার পক্ষ থেকে যায়নি। হাইয়াতুল উলয়ার দপ্তর সম্পাদকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনিও ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন। তাবলিগের এই ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কী করা যায় তা নিয়ে এখনও পরামর্শ চলছে, চূড়ান্ত কোনো নির্দেশনা আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি, তাই আল্লামা আহমদ শফীর নামে এ সংবাদ প্রচার করা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান করছি।’
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গতকাল হাইআতুল উলয়ার অফিসিয়াল প্যাডে আল্লামা শফীর সাক্ষরে ‘জরুরি এলান’ শিরোনামে একটি ঘোষণা সম্বলিত পিকচার অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে। পিকচারটিতে লেখা— ‘আল্লামা শাহ আহমদ শফী [দা.বা.] এর নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, প্রতিটি জেলা উপজেলায় ওলামায়ে কেরাম এবং তাবলীগী সাথী ও মুরুব্বীদের সাথে পরামর্শ করে টঙ্গী মাঠে সা’দ পন্থীদের হামলায় নিহত আহতদের পক্ষে ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিফুল ইসলাম, নাসিম, মাও. মোশাররফ, মাওঃ আশরাফ আলী, আঃ রশিদ চাঁদপুর গংদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে সামর্থ অনুযায়ী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করতে হবে। বি.দ্র. পরামর্শক্রমে একজন বাদী হয়ে উকিলের মাধ্যমে মামলা করবেন।’
আল-হাইআতুল উলইয়া এবং হাটহাজারী থেকে একাধিক সূত্র পিকচারটি ভুয়া বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমকে। প্রথম আলো তাদের নিউজে সংবাদপ্রাপ্তির কোনো সূত্র উল্লেখ করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম আলোর প্রতিবেদক এই পিকচারটির ওপর ভিত্তি করেই আজকের আলোচিত সেই নিউজে উপরোল্লিখিত বক্তব্য সংযোজন করেছেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় কোনো পত্রিকা যদি অনলাইনে ভাইরাল হওয়া সূত্রহীন তথ্যের ওপর এভাবে নির্ভর হয়ে পড়ে, তবে তাদের নির্ভরযোগ্যতা ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।
