
নাইম বিন মাসউদ
আজ ১২ ই রবিউল আওয়াল। এ দিনে অনেক মুসলিম রাসূল সা.-এর জম্মদিবস উপলক্ষে মহা আয়োজন করে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে থাকেন। রাসূলের মুহাব্বত প্রকাশ করার সব মাধ্যমেই পেশ করে থাকেন। জশনে জুলুস নাম ব্যবহার করে মাসব্যাপী বিশাল আয়োজন করা হয়। কোথাও বা আবার ষাট দিন উদযাপন করা হয়। যারা এ ঈদে মিলাদুন্নাবী উদযাপন করে থাকেন আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস তারা কুরআন-হাদিসের প্রতি পূর্ণ ইমান রাখেন এবং এর বাহিরে কোনো আমল সওয়াবের নিয়তে করেন না।
তাই যারা এ দিন ‘ঈদ’ নাম ব্যবহার করে উদযাপন করে থাকেন তাদের নিকট কুরআন-হাদিসের আলোকে বিনীতভাবে কিছু প্রশ্ন রাখতে চাই।
১. রাসূল সা.-এর জম্মদিবস কোন মাসের কত তারিখে এ পর্যন্ত কোনো ইতিহাসের পাতায় নির্দিষ্টভাবে লেখা নেই। এ সম্পর্কে কুরআন-হাদিসে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ও দালিলাদি নেই। তাফসিরে ইবনে কাসির, যার গ্রহণযোগ্যতা আজো পৃথিবীময়; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, যা ইসলামী ইতিহাসের এক অনবদ্য গ্রন্থ; আরো কিছু কিতাব আছে, যাতে রাসূল সা.-এর জম্মতারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব কিতাবে রাসূল সা.-এর জম্মতারিখ নিয়ে ৭ টি মতামত রয়েছে। কোথাও আবার ১২টি মতামত আছে। এমনকি রাসূল সা.-এর জম্মমাস নিয়েও মতপার্থক্য আছে। তাহলে কোন দলিলের ভিত্তিতে এ দিবস উদযাপন করা হয়? যেখানে কোনো সাহাবী, কোনো ইমাম, কোনো মুফাসসির ও ইতিহাসবিদ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ণয় করেননি।
২. রাসূল সা. জীবনে ৬৩ বছর হায়াত পেয়েছেন। নবুওতের পূর্বে ছিলো ৪০ বছর। আর নবুওতের সময় ছিলো ২৩টি বছর। তিনি চাইলে একবারের জন্য তার জম্মদিবস পালন করতে পারতেন না?
৩. রাসূল সা. কি জীবনে একবার হলেও আল্লাহর ইশারায় সাহাবাদের নিয়ে এ দিন উদযাপন করতে পারতেন না বা সাহাবীদের অনুমতি দিতে পারতেন না! কিন্তু তিনি তা করেননি।
৪. রাসূল সা.-এর বিদায় হজে সোয়া লক্ষ সাহাবি উপস্থিত ছিলেন, যারা রাসূল সা. কে নিজের জীবন থেকেও অধিক ভালোবাসতেন; এ বিষয়ে তো কারো দ্বিমত নেই। তারা কি একবারের জন্য রাসূল সা.-কে জিজ্ঞাসা করেছেন, আপনার জম্মদিবস কোন মাসের কত তারিখ?
৫. ঈদে মিলাদুন্নবী নামের মাঝে এই ‘ঈদ’ শব্দটি কুরআন-হাদিসের কোথাও কি আছে? প্রথম তিন যুগের কেউ এ ঈদ পালন করেননি। তাহলে কোন দলিলের আলোকে এ দিনকে ঈদ বলা হয়?
৬. সর্বশেষ প্রশ্ন হলো, রাসূল সা. মুহাব্বত করা, তাকে ভালোবাসা, তার সুন্নাহ অনুসরণ করা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব। যতটুকু শরীয়ত অনুমোদন দেয় এর প্রকাশ করার দ্বারাও সওয়াব হাসিল হয়। কিন্তু তা হতে হবে অবশ্যই কুরআন হাদিসের আলোকে। কুরআন-হাদিসবর্জিত যত ভালোবাসা প্রকাশ করি না কেনো, তা কি আমার জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে না?
প্রত্যেক দাবির সত্যতা নির্ণয় করার জন্য প্রমাণ ও দলিল থাকতে হয়। অন্যথায় সে দাবি অসত্য প্রমাণিত হয়। আমরা প্রত্যেকেই রাসূল সা.-কে ভালোবাসার মুহাব্বত করার দাবি করি। তাহলে কোন দলিল ও মাপকাঠির মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারবো যে, আমার ভালোবাসা শতভাগ শুদ্ধ।
রাসূল সা. আমাদের তার মুহাব্বতের মাপকাঠি ঠিক করে দিয়েছেন। যে মাপকাঠির আলোকে আমরা বুঝতে পারবো আমাদের ভালোবাসা কীভাকে ও কোন পথে প্রকাশ করবো।
রাসূল সা. এরশাদ করেছেন, যে আমার সুন্নাতকে ভালোবাসে, সে আমাকে ভালোবাসলো আর যে আমাকে ভালোবাসলো, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। (তিরমিযী : ২৬৭৮)
এ হাদিসে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে রাসূল সা.-কে ভালোবাসার একমাত্র মাপকাঠি হলো সুন্নাতের অনুসরণ করা। সুন্নাত ত্যাগ করে যতভাবে মুহাব্বত প্রকাশ করা হোক তা বিদআতই ধরা হবে। আর বিদআতের শেষ ঠিকানা হলো জাহান্নাম।
সুতরাং আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে, আমরা রাসূল সা.-কে ভালোবাসবো মুহাব্বত করবো এবং তা আমাদের কথায় ও আমলে অবশ্যই প্রকাশ করবো, এতে ইসলাম আমাদের আরো উদ্বুদ্ধ করে; কিন্তু তা হতে হবে সুন্নাতের তরিকায়।
এ ক্ষেত্রে আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ হলো সাহাবায়ে কেরাম রা.। কেউ তাদের থেকে অধিক রাসূল সা.-কে মুহাব্বতের দাবি করার সুযোগ নেই। তারা কীভাবে রাসূলের প্রতি তাদের আন্তরিকাতা মুহাব্বত প্রকাশ করেছেন, তাও আমাদের সঠিকভাবে জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে হবে।
আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে বুঝে আমল করার তাওফিক দান করুন।
