
ওমর ফারুক
মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি। সংগঠনটি বিশ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক। দলের পক্ষ থেকে নীলফামারি-১ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। সুষ্ঠু নির্বাচন আর মনোনয়ন পেলে তাকে নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদেরও বেশ জোরালো আশা আছে। জমিয়তের পাঁচ শীর্ষ প্রার্থীর মাঝে রয়েছেন মাওলানা আফেন্দীও। ফাতেহ২৪-এর সাথে মাওলানা আফেন্দীর কথা হয় নির্বাচনী ভাবনা, কৌশল, প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? এ বিষয়ে মাওলানা আফেন্দী জানান, আমরা তো মনোনয়ন নির্ভরশীল চিন্তাভাবনা নিয়ে অগ্রসর হইনি। যদি মনোনয়ন পাওয়া যায় নির্বাচন করবো। আর যদি না পাওয়া যায় তাহলে দলীয়ভাবে দলের নীতি নির্ধারকরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তাই মেনে নেবো। তবে মনোনয়নের বিষয়টি আরও দু’চার দিন না গেলে স্পষ্ট হচ্ছে না।
একজন আলেম হিসেবে আপনি কেন নির্বাচনে যাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জনসেবার জন্য। যাকে বলা হয় খেদমতে খলক। আর্ত মানবতার সেবা। আমি আমার এলাকার মানুষদের ভালোবাসা উপলব্ধি করেছি। আমি যখন সৌদি আরবে ছিলাম বাংলাদেশের অনেক অনেক মানুষ আমাকে পছন্দ করতো ও ভালোবাসতো। এর মধ্যে যারা গরীব দুঃখী তারা নানাভাবেই উপকার চায়। এখন যে উপকার করি সেটা সীমিত পরিসরে, মনমতো পারা যায় না। আমি যদি কোনো দায়িত্ব পাই আর সেটা আমানতদারির সাথে পালন করি তাহলে নিঃসন্দেহে মানুষ আমার দ্বারা উপকৃত হবে। এটাই আশা। মোটকথা মানুষের কল্যাণ সাধন করা।
নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে আপনার প্রচারণার কৌশল কী? এর জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকার জনগণই এসব পরিকল্পনা করবে। মূলত পরিকল্পনা যেটাকে বলা হয় আমরা সময়মতো সেটা নির্ধারণ করবো। নির্বাচন বাস্তবায়ন সেন্ট্রাল কমিটি থাকবে, ওয়ার্ড কমিটি থাকবে। বিভিন্নরকম সাব কমিটি গঠন করা হবে। বিশেষ করে কর্মীবাহিনী ও অভিজ্ঞ মানুষেরা যেন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করতে পারে তার পরিকল্পনা হবে।
নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকার মানুষদের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতি কী থাকবে? তিনি বলেন, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো। এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে যতোটুক হক আমার কাছ আসবে তা তাদের কাছে যথাযথ পৌঁছে দেওয়া । তাদের পাওনাটুকুই তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াও এ জমানায় বড় সেবা। সেটিকে আমি সবচেয়ে জরুরি মনে করি। যেমন, রাস্তা ঘাট নির্মাণ হয় সেখানে অনেক এদিক সেদিক হয়, দুর্নীতি হয়। এগুলো থেকে বেঁচে থাকাও বড় সেবা। আমাদেরও বিচক্ষণতা ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলে পাওনাটুকু মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে যাবে। এটাকে নিশ্চিত করাই হবে আমাদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।
একজন আলেম সাংসদ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে আপনার ভূমিকা কী থাকবে? এ বিষয়ে মাওলানা আফেন্দী বলেন, ইসলামের পক্ষে কথা বলা হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো কিছু আসলে তাও প্রতিরোধ করা হবে। চেষ্টা থাকবে যেন এমন কিছু না আসে। আসলেও যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা। সবাইকে বুঝানো। এ চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও মাদরাসা, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গড়া। মানুষকে মসজিদমুখী ও দ্বীনমুখী করা।
ভোটারদের প্রতি আপনার আহ্বান কী থাকবে? তিনি বলেন, তাদের প্রতি আমার আহ্বান এই যে, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় তারা এগিয়ে আসুক। ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সুখী, শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখুক। এটাই তাদের কাছে আমার একমাত্র প্রত্যাশা।
