পুরুষ মশারা মানুষকে দংশন করে না!

ফাতেহ ডেস্ক : গ্রাম কিবা শহরে শিশু থেকে শুরু করে যুবক বৃদ্ধসহ প্রায় সব বয়সের মানুষের কাছেই মশার কামড় একটি অসহ্য যন্ত্রণার নাম।

মায়েরা তাদের আদরের শিশুটিকে মশার কামড় থেকে আগলে রাখতে কত চেষ্টাই না করেন। বাজার ছেয়ে আছে মশানিধনের কত সরঞ্জাম। শুধু কি তাই? মশার কামড় থেকে বাঁচতে কয়েল কিংবা মশারির আশ্রয় নেন না এমনই লোকই বা পাওয়া যাবে কজন। অথচ এই মশা সম্পর্কে একটি আশ্চর্য সত্য আমরা অনেকেই জানি না।

আমরা মনে করে থাকি মশাদের খাদ্য শুধুই মানুষের রক্ত। কিন্তু না। জীববিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, পুরুষ মশারা কখনো মানুষকে কামড়ায় না। রক্তপান করে বেঁচে থাকার দরকার হয় না তাদের। রক্ত শুধু স্ত্রী-মশকীরাই পান করে। তাদের কেন তবে রক্তের প্রয়োজন হয় এ বিষয়টিরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন জীব বিজ্ঞানীগণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্ত্রী-মশা তাদের ডিম্বাণুর পরিস্ফুটনের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধির জন্য নিজ দেহকে উষ্ণ রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এ কারণে তারা তাদের খাদ্য হিসেবে উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীদের দংশন করে সে রক্ত পান করে।

আর ঠিক এ কারণেই দেখা যায় বহুল পরিচিত ম্যালেরিয়া রোগটি Anopheles গণভুক্ত বিভিন্ন প্রজাতির মশকীর মাধ্যমেই বিস্তার লাভ করে। তারা তাদের লালায় এ রোগ বহন করে এবং যখন মানুষের রক্তপান করে তখন জীবাণুটি মানুষের রক্তস্রোতের মধ্য দিয়ে মাত্র ত্রিশ মিনিটেই যকৃতে পৌঁছে যায় আর এভাবেই স্ত্রী মশার কামড়ে একজন মানুষ ম্যালেরিয়াক্রান্ত হয়।

এখন প্রশ্ন থেকে যায় পুরুষ মশারা তবে খাদ্য হিসেবে কী গ্রহণ করে। বিজ্ঞানীর গবেষণায় এ বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে যে, পুরুষ মশারা খুবই সৌখিন প্রজাতির। তারা ফুলের মধু বা এ ধরনের অন্যান্য উৎস হতে খাবার সংগ্রহ করে এবং কখনোই মানুষকে দংশন করে না।

আমরা হয়ত আরো একটি বিষয় লক্ষ করে থাকবো কিছু মানুষকে কামড়াতে বেশি পছন্দ করে মশকীরা। আর কামড়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যালেরিয়া ছাড়াও বেশ কিছু রোগ ছড়ায় তারা। যেমন ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং জিকা। কিন্তু কেন এমনটি হয়? কাদেরকে তারা বেশি কামড়ায়?

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউসি ডেভিস বিশ্ববিদ্যালয়ের মশা গবেষণা পরীক্ষাগারে কর্মরত লার্ক কফি জানিয়েছেন কিছু কিছু মানুষের শরীরে মশকীর প্রিয় রাসায়নিক বেশি থাকে বলে তাদের প্রতি মশকীরা বেশি আকৃষ্ট হয়। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের শরীরের গন্ধ এবং আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইডে আকৃষ্ট হয় মশকী। কারও কারও শরীরের গন্ধ মশার কাছে বেশি প্রিয়।’

অনেকেই ঠাট্টা করে বলেন, যাদের রক্ত বেশি মিষ্টি তাদেরকে  বেশি কামড়ায়। বিষয়টা অনেকটা তেমনই। ত্বক থেকে নিঃসৃত কিছু রাসায়নিক (যেমন ল্যাকটিক এসিড) বস্তু মশাকে বেশি আকর্ষণ করে। এ ছাড়া ও গ্রুপের রক্তের মানুষকে মশকী বেশি কামড়ায়।

শরীর থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইডও মশাকে আকৃষ্ট করে। গর্ভবতী নারী, অতিরিক্ত মোটা মানুষ, ব্যায়ামের পর বা মদ্যপানের পর মানুষকে মশকী বেশি কামড়ায়।