যেভাবে বাড়াবেন ওয়াইফাইয়ের গতি

এই যুগে ইন্টারনেট ছাড়া থাকা অসম্ভব। যার প্রেক্ষিতেই বাসা-বাড়ি বা যে কোনো প্রতিষ্ঠানে ওয়াইফাই ব্যবহার এখন নিত্যদিনের সঙ্গী, হোক সেটা বাসা কিংবা অফিস। ওয়াইফাই ইন্টারনেট ছাড়া যেন চলেই না! তবে যেখানেই এই ওয়াইফাইয়ের ব্যবহার করি না কেন, গতির পরিমাণ থাকে খুবই কম। এত স্লো থাকে যে কোনো কাজ শান্তিমতো করা সম্ভব হয় না।

ডেটা ট্রান্সফার করতে ২টি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির সাহায্য নেয় ওয়াইফাই। এগুলো হল ২.৪ গিগাহাট্জ এবং ৫ গিগাহাট্‌জ। বেশিরভাগ আধুনিক রাউটার এই দুই ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে ঘোরাফেরায় স্বচ্ছন্দ।

এই দুই ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে রয়েছে একাধিক চ্যানেল; ২.৪ গিগাহাট্‌জে ১৪টি এবং ৫ গিগাহাট্‌জে ৩০টি। ওয়াইফাই হঠাৎ ধীরে চলার পিছনে নানা কারণ থাকতে পারে। জেনে নিই গতি বাড়াতে কিছু করণীয়।

১. রাউটার প্লাগ ইন করার সময় জায়গা নির্বাচন নিয়ে বেশির ভাগ মানুষই ভাবেন না। অনেক সময় মেঝের ওপর বা কোনো কিছুর আড়ালে প্লাগ থাকার দরুন সেখানেই রাউটারের ঠাঁই হয়।

মনে রাখতে হবে, রাউটার যত উঁচুতে রাখা যায় তত রেডিও ওয়েভ সম্প্রচারের পরিধি ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুততম ইন্টারনেট পরিসেবা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে, উঁচু অবস্থানের জন্য অবাঞ্ছিত যে কোনো বাধাও এড়ানো যায়।

২. মনে রাখা দরকার, রাউটার থেকে যত দূরে যাওয়া যাবে, ওয়াইফাই সিগন্যাল ততই দুর্বল হবে। এই কারণে ডিভাইসের কাছাকাছি রাউটার থাকা দরকার। রাউটার থেকে ওয়াইফাই সিগন্যাল ৩৬০ ডিগ্রি পরিধিতে ছড়িয়ে পড়ে।

তাই বাড়ির মধ্যস্থলে রাউটার বসাতে হবে। তবে বাড়ি যদি বিশাল হয় এবং ওয়াইফাই স্পিড কম হয় তাহলে ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার বা রিপিটার ব্যবহার করতে হবে।

৩. মাইক্রোওয়েভ ওভেনও ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে বাধা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে পুরনো রাউটারের ক্ষেত্রে এই সমস্যা ঘটে। মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ফ্রিকোয়েন্সি ওয়াইফাই ফ্রিকোয়েন্সিকে অনেক সময় ওভারল্যাপ করে বলেই সমস্যা হয়। তাই মাইক্রোওয়েভ থেকে রাউটার দূরে রাখা দরকার।

৪. একই সমস্যা দেখা দেয় ব্লু টুথ নিয়ে। সাধারণত মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা ব্লু টুথ ডিভাইস ঢেকে রাখার জন্য সঠিক ধাতব চাদর ব্যবহার করে নির্মাতা সংস্থা। কিন্তু অনেক সময় তাতে খুঁত থাকলেই মুশকিল। এই কারণে এই সমস্ত ডিভাইসের থেকে রাউটার দূরে রাখাই নিরাপদ।

৫. মানুষের শরীরের ৬০ শতাংশ পানি। রেডিও তরঙ্গের গতিরোধ করে পানি। তাই চেষ্টা করতে হবে, রাউটারের কাছে যেন বেশি মানুষ ভিড় না জমান। সামান্য হলেও তাতে ওয়াইফাই স্পিড কমবে।

৬. কংক্রিট ও ধাতু আংশিকভাবে ওয়াইফাই তরঙ্গ রোধ করে। তবে এই দুই পদার্থ ছাড়াও কোনও বৈদ্যুতিক যন্ত্র রেডিও তরঙ্গ রুখে দিতে বা শ্লথ করে দিতে পারে। রাউটার বসানোর সময় তাই দেখে নিতে হবে, তরঙ্গ সম্প্রচারের পথে কোনো আড়াল যেন না থাকে।

পাশাপাশি, বাড়ির বেসমেন্টে কখনও রাউটার রাখা চলবে না। কারণ এই এলাকাটি কংক্রিটে আবদ্ধ থাকে, যা ভেদ করতে ব্যর্থ হয় ওয়াইফাই সিগন্যাল।