
আসিফ আসলাম
গতবছর বইমেলায় পরিবারসহ ঘুরতে আসা মালেকা বেগম নামের এক মহিলার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। তিনি দুঃখভরা কণ্ঠে বলেছেন ‘বইমেলায় তো সব রকমের বইয়ের স্টলই দেখলাম, কিন্তু অভিজাত ইসলামি প্রকাশনীগুলোর তেমন স্টল চোখে পড়ল না। ছেলেমেয়েদের পছন্দের বই কিনে দিয়েছি। কিন্তু আমার পছন্দ করার মতো কোনো ইসলামী বই খুঁজে পেলাম না।’
এমন অভিযোগ শুধু মালেকা বেগমেরই নয়, তার মতো হাজারও দর্শনার্থীরও। বইমেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে বাচ্চা ও তরুণদের ঝোঁক গল্প-ফিকশনের দিকে থাকলেও বয়স্কদের ঝোঁক থাকে প্রবন্ধ, ভারী উপন্যাস এবং ইসলামি বইয়ের দিকে। প্রবন্ধ ও উপন্যাসের বই পাওয়া যায়। কিন্তু ইসলামি বইয়ের খোঁজ করলে তাদের হতাশ হতে হয়।
বিশেষ করে নারীদের। তারা নানা কারণে একা একা ইসলামি লাইব্রেরিগুলোয় যেতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু বইমেলায় সেই সংকোচ থাকে না। পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসে নির্দ্বিধায় নিজেদের পছন্দের বই কিনতে পারেন।
ফারুক নামের এক দর্শনার্থী জানিয়েছিলেন ‘ইসলামী বই সম্পর্কে তেমন ধারণা না থাকার কারণে সরাসরি লাইব্রেরি থেকে নিতে পারি না। বইমেলায় এসে হাজারও বইয়ের মধ্যে পছন্দ করে বই কেনার আশায় থাকি। কিন্তু এখানে এসে আমাদের সেই ইচ্ছা পূরণ হয় না।’
সত্যিই তাই। বইমেলায় প্রায় পাঁচ থেকে ছয়শ স্টল থাকে। কিন্তু এর মধ্যে ইসলামি প্রকাশনীর ২০টি স্টলও নেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্স ও বইঘর ছাড়া অন্য কোনো অভিজাত ইসলামি প্রকাশনীর স্টল চোখে পড়ে না। এটা হতাশাব্যঞ্জক।
বছরের অন্যান্য সময় ইসলামি প্রকাশনীগুলোর উদ্যোগে কিতাবমেলা অনুষ্ঠিত হলেও সেটা তেমন জমজমাট হয় না এবং অধিকাংশ মানুষ তার খবর জানে না। অন্যদিকে একুশে বইমেলা বাঙালিদের প্রাণের মেলা। এখানে দলমত নির্বিশেষে সবার আগমন ঘটে। শহরজুড়ে একটা উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। সবাই নিজেদের পছন্দের বই কেনার জন্য মেলায় ভিড় জমাতে থাকে।
সুতরাং সেখানে গল্প-উপন্যাসের যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনই ইসলামি বইয়েরও প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
তাই মহান একুশে বইমেলায় গল্প উপন্যাসের পাশাপাশি ইসলামি বইয়ের স্টল রাখা এখন সময়ের দাবি।
লেখক : তরুণ আলেম
