‘বাবা—বাতিলের অনুসারী, ছেলে—আলেমে ছু’

গত ১লা ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমার ময়দানে সাদপন্থীদের মাঠ দখলের পাঁয়তারায় সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলা এবং সাধারণ তাবলিগি সাথি ও মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের মারাত্মকরকম হতাহতের ঘটনায় ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয় শোকাভিভূত হয়ে পড়ে। বিখ্যাত বুজুর্গ হজরত ইলিয়াস রহ.-এর অপরিসীম আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠতায় পত্তন করা এত দিন ধরে সুচারুরূপে চলে আসা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত দ্বীনের এই কাজটির মধ্যেও স্বার্থান্বেষী মহল ও কুচক্রী গোষ্ঠী চড়াও হয়েছে। তাদের এহেন দুরভিসন্ধিমূলক কর্মকাণ্ড ও চক্রান্ত যে পরিবারে-পরিবারেও কী জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে চলছে, সে নিয়েও উঠে আসছে নানা বিব্রতকর ও জটিলতম সংকট। স্যোশাল যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এরকম নানা পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। ফাতেহ24-এর পক্ষ থেকে সেরকম একটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হলো…

মনযূরুল হক ।। 

ছেলের কাছে বাবা—বাতিলের অনুসারী
বাবার কাছে ছেলে—আলেমে ছু

অথচ অনেক অনেক দিন আগে এই বাবাই একদিন তাবলিগ থেকে ফিরে ছেলেকে কওমি মাদরাসায় দিয়েছিলেন। কতজন কত কথা বলেছে—মেধা ভালো, ছেলেটাকে নষ্ট কইরেন না। বাবা দীনের খাতিরে কারও কথায় কান দেন নাই।

ছেলে ধীরে ধীরে বড় হয়েছেন, বাবার অর্থে স্পেশালখানা খেয়ে দীন শিখেছেন, মাঝেমধ্যে বাবার গরজে রমজানে তাবলিগে সময় দিয়েছেন। এখন তিনি মাদরাসায় পড়ান। আলেম গড়ার খেদমতে নিয়োজিত। বেশ কয়েকটি কিতাবও অনুবাদ করেছেন। কখনও সময় পেলে ওয়াজ নসিহতে আখেরাতের কথা বলেন। নিজের এলাকায় একটা ভালো কওমি মাদরাসা নাই—প্রতিষ্ঠার কথা ভাবেন, সহযোগী কোনো হেদায়াতপ্রাপ্ত বান্দার অুনসন্ধান করেন।

বাবা চাকরির ফাঁকে ফাঁকে দিনরাত এক করে তাবলিগে সময় দিয়েছেন। অজস্র মানুষকে দীনের পথে এনেছেন। তারাও তাদের সন্তানদের মাদরাসায় পাঠিয়েছেন। বাবার মেহনতে বাড়িতে শতভাগ মানুষ মুসল্লি হয়েছে। দশগ্রামে ‘মিলাদ’ বন্ধ হয়েছে, বিয়েতে ও মৃতের সৎকারে অনৈসলামিক অনুষ্ঠান রোধ করা গেছে। দুটি নুরানি মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ছেলের পরিচিত আলেম এনে এলাকায় সহিহ দীনের হাওয়া চালু করেছেন। সময়ের ব্যবধানে তিনি কেবল জবরদস্ত তাবলিগওয়ালাই হন নি, দশগ্রামের মুরব্বিও হয়েছেন।

ছেলে যখন বাড়িতে আসে বাবার সম্মানে সে-ও সম্মানিত হয়। লোকজন তাকে জুমার দিনে সামনে বাড়িয়ে দেয়। তার দরদি খুতবা শুনে বাবার ছাতি ফুলে ওঠে। কেউ বাহবা দেয়, কারও চোখে হেদায়াতের অশ্রু ঝরে। ছেলের সম্মানে বাবাও সম্মানিত হন।

তারপর…একটা বিভীষিকা এলো। ছেলে মাওলানা সা’দের আপত্তিকর বক্তব্য নিয়ে বাবার সঙ্গে বচসায় জড়ালো। বাবাও ছেলেকে শাপলার (যে-রাতে ছেলের চিন্তায় বাবা চিৎকার করে কেঁদেছেন) খুনীকে কওমি জননী আর বেপর্দা নারীর করমর্দনের অপরাধে ঘায়েল করলেন।

এরপর থেকে বাবাকে ছেলে ভাবে—আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সলুল আর নিজেকে ভাবে—আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সলুল। আর বাবা আফসোস করেন—শেষমেশ ছেলেটা আলেমে ছু হয়ে বেরুলো, ছোট ছোট ছাত্রদের নিয়ে ইজতেমায় গিয়ে ইসমাইলের মতো বৃদ্ধকে খুন করে ফেলল।

পূর্বে যারা বাবার তাবলিগি কর্মকে পাগলামি আর ছেলেকে মাদরাসায় দেওয়ার ফলে ভবিষ্যত নষ্টের আশঙ্কা করেছিল, তারা এখন বাবা-ছেলের কাণ্ডে হাসে। কিছুই বলে না। মাঝেমধ্যে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেয়।…

আগের সংবাদভিকারুননিসার ছাত্রীর আত্মহত্যা, শিক্ষককে সাময়িক অব্যাহতি
পরবর্তি সংবাদ৩০০ আসনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ