
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
গত ১০ই জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের সাথে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ক্যাম্পাসে রাজনীতি করা এবং ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ডাকসু-গঠনতন্ত্রে আইন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি তোলেন।
বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণেই ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো ছাত্রসংগঠন ঢাবি ক্যাম্পাসে খুব একটা ক্রিয়াশীল না থাকলেও, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (ইশা) সেখানে মোটামুটিভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু ১০ জানুয়ারির ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনী বৈঠকে তাদেরকে ডাকা হয়নি। এজন্য ইশার ক্যাম্পাস-নেতৃবৃন্দ প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করে কেন তাঁদেরকে ১০ জানুয়ারির মিটিংয়ে ডাকা হয়নি—এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এবং তাদের ৯ দফা দাবি নিয়ে আসন্ন ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে প্রচারণাও চালিয়েছেন। যেখানে তাঁরা নিজেদেরকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত এবং স্বাধীনতার চেতনা লালনকারী হিসেবে উপস্থাপন করেন। তাদের নয় দফা দাবিতেও কোনো ধর্মভিত্তিক দাবি দেখা যায়নি।
১০ই জানুয়ারির বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোর খসড়া ও নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া উপস্থাপন উপলক্ষে আজ (২১ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভিসি আখতারুজ্জামানসহ পরিবেশ পরিষদের অন্তর্ভুক্ত সকল রাজনৈতিক সংগঠনের ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু পরিবেশ পরিষদের সদস্য না হবার কারণে ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেউ আজকের এ মিটিংয়েও উপস্থিত হতে পারেননি।
আজকের এ মিটিংয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকি দাবি তোলেন, ক্যাম্পাসে যেন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সবধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করারও দাবি জানান তিনি।
এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদল আসলেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চায় কি-না প্রশ্ন তুললে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শক্তভাবে বলা হয়, তারা কোনোভাবেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চান না এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁরা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি-মুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে ঢাবি ক্যাম্পাসকে দেখতে চান।
এ সময় ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ আহমেদও দাবি তোলেন যে, ছদ্মবেশেও যেন ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সাথে যুক্ত কোনো কর্মী কোনো প্যানেলের সঙ্গে না থাকে। যদি কোনো প্যানেলে এ রকম কাউকে পাওয়া যায়, তবে সে প্যানেলকে যেন বাতিল বলে ঘোষণা করা হয় এবং তাদেরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ না দেওয়া হয়।
কিন্তু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বলতে তারা কী বোঝাচ্ছেন, এর কোনো স্পেসিফিক ব্যাখ্যা ক্রিয়াশীল এই ছাত্রসংগঠনগুলোর কাছ থেকে কখনও আসেনি। তবে তাঁদের বক্তব্য-বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, যে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের গঠনতন্ত্রে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ধর্মভিত্তিক বিষয়াবলীকে অগ্রাধিকার দিয়েছে সেগুলোকেই তারা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেন।
কিন্তু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের দাবি তোলা ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মূল সংগঠন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে দেখা গেছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট করেই রাজনীতি করতে। দুইটি দলই ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। পাশাপাশি বর্তমানে ঢাবি ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ইশা আন্দোলনের মূল দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও বেশ দাপটের সঙ্গে রাজনৈতিক ময়দানে কাজ করছে। তাঁদের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা কিংবা নিষেধাজ্ঞা খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না।
এই পরিস্থিতিতে, ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগ তাদের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি-বিরোধী অবস্থানকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
