ঢাকার ইটালি হোটেল

কাজী মাহবুবুর রহমান ঃ 

ঢাকা বদলে যাচ্ছে সন্দেহ নেই। এতদিনে বদলে গেছেও অনেক। অনেক উন্নত শপিংমল, রেস্টুরেন্ট হয়েছে। একসময়ের ঝিল, ডোবা, নালা ভরাট হয়ে সেখানে ব্যংক, অফিস, কারখানা গড়ে উঠেছে। শুনেছি শুক্রাবাদ অঞ্চলটি ধানক্ষেত ছিল। এখন রুপকথাই মনে হবে। ঢাকার সংস্কৃতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই স্মৃতির অতলে যেতে যেতে হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার পুরান সংস্কৃতির ভেতরে ‘ ইটালি হোটেল’ এর কথা বলা যায়।

রাস্তার পাশে নড়বড়ে অবকাঠামোর ছাপড়া হোটেলগুলিকে লোকভাষায় ইটালি হোটেল বলে। এই নামকরণের পেছনে কারণ কি তা এখনো জানতে পারিনি। এই হোটেলগুলি বেশীরভাগই পলেস্তরা খসা ইটের দেয়াল ঘেষে গড়ে ওঠা। ইটালি হোটেল নাম হওয়ার পেছনে এটাই কি কারণ হতে পারে? কি জানি, হবে হয়ত। অথবা, ইটালিয়ান স্ট্রীটফুট সংস্কৃতির সঙ্গে এর কোন যোগ থাকতে পারে? সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।  অথবা ইটের ওপর বসে খেতে হয় বলে ইটালি হোটেল নামে নামকরণ।

পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর এবং মিরপুরের পুরাতন অধিবাসীদের খাদ্যরুচি গড়ে ওঠার পেছনে বিহারিদের প্রভাব চোখে পড়ে। ইদানীংকালে চাইনীজ ও থাই খাবারে শহর ছেয়ে যাচ্ছে। পুরান ঢাকার বয়স্কদের সঙ্গে কথা বললে ষাট সত্তরের দশকের  অনেক বিহারী বাবুর্চীর সপ্রশংস নাম শোনা যায়। এরকম ইটালি হোটেলেই ব্যবসা করে গেছেন, এমনও অনেকে ছিলেন। রায়ের বাজার পুরান মন্দিরটির চারপাশে এখন বিশাল বাজার। এর ফলেই হয়ত মন্দিরটি ঢাকা পড়ে গেছে। একদম কাছে না গেলে চোখে পড়েনা। যতদিন মুহাম্মদপুর থেকেছি ততদিন এই মন্দিরটির প্রতি আমার বিশেষ আগ্রহ ছিল। কারণ সেই ইটালি হোটেল।

মন্দির এখন আর ব্যবহৃত হয় না। তার দেয়াল ঘেষে টিনের জোড়াতালি দিয়ে এক জাপানফেরত ভদ্রলোক একটি ছোট্ট হোটেল গড়ে তুলেছেন। অতি সাধারণ ও সীমিত ব্যবসা। সকাল ছয়টা থেকে নয়টা, এই মাত্র তিন ঘন্টা হোটেল খোলা থাকে। তিনঘন্টাই তিনি আর তার দুইটি বয় দুই হাতে কাজ করেও সেরে উঠতে বিষম খান। হোটেলটির বিশেষত্ব হল, রুটিগুলি অত্যন্ত পাতলা চারটি স্তরে তৈরী করা হয়। এবং কারিগর জাপানি মার্শাল আর্ট কসরতের ভঙ্গিতে রুটি তৈরী করেন। আমি দীর্ঘ সময় কেবল তাকিয়েই থাকতাম। বড় ভাল লাগত।

পথেঘাটে, পলেস্তরা খসা দেয়ালের পাশে কত সৌন্দর্যই না ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা আছে।

আগের সংবাদঅস্ত্রবিরতি চুক্তিতে পৌঁছালো ইসরায়েল ও হামাস
পরবর্তি সংবাদস্কুল কলেজের ধর্ম বইগুলো ধর্ম শেখাতে পারছেনা কেন?