ডুবুরিদের দেখতে পাওয়া ছিল অলৌকিক, থাই কিশোরদের লোমহর্ষক বর্ণনা

ফাতেহ২৪ ডেস্ক: থাইল্যান্ডের ‘থাম লুয়াং নন’ গুহা থেকে গত ৮, ৯ ও ১০ জুলাই উদ্ধার হওয়ার পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন থাই ফুটবল কিশোররা। গণমাধ্যমের কাছে দিয়েছেন লোমহর্ষক বর্ণনাও।

দীর্ঘ ১৭ দিন গুহার অন্ধকারে কোনোমতে সময় পার করার পর যখন উদ্ধারকারী দলের ডুবুরিদের দেখতে পায় থাই কিশোররা, ঠিক সেই মুহূর্তটি তাদের কাছে ছিল অলৌকিক। ক্ষীণ আশা নিয়ে জীবন টিকিয়ে থাকার লড়াইয়ের পর ওই সময়টি তাদের কাছে ছিল অবিশ্বাস্য। কিশোররা গণমাধ্যমের কাছে এভাবেই তাদের অনুভূতি তুলে ধরেন।

বুধবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় তাদের। এর আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি করা হয় তাদের।

ওই থাই কিশোরদের মধ্যে ইংরেজি বলতে সক্ষম একমাত্র স্যাম (১৪)। সে জানায়, ডুবুরিরা প্রথম যখন গুহায় কিশোরদের কাছে পৌঁছায় ওই সময়টিতে তাদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। ওই সময়টি তাদের কাছে ছিল একটি ‘অলৌকিক মুহূর্ত’। স্যামই প্রথম সেই ব্রিটিশ ডুবুরিদের ‘হাই’ বলে কথা বলতে শুরু করে।

একজন বলেছে, অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে সে আরও সতর্ক হবে এবং জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করতে শিখবে। অন্য আরেক কিশোর বলেছে, এই বিপদ তাকে আরও সহিষ্ণু ও শক্তি সঞ্চয় করতে শিখিয়েছে।

কিশোররা আরও জানায়, তারা গুহার ভেতর সুপেয় পানি পেয়েছিল, তবে তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার ছিল না। উদ্ধারকারী ডুবুরিদের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল জানিয়ে তারা বলে, একসাথে ‘চেকার’ খেলে তারা সময় পার করেছে।

অভিযানে অক্সিজেনের অভাবে মারা যাওয়া থাই নেভি সিলের ডুবুরি, সামান কুনানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছে কিশোররা। তারা জানায়, ‘সামানের মৃত্যুর খবরটি শুনে আমরা ভীষণ কষ্ট পেয়েছি! তার পরিবারের জন্য আমরা কষ্ট বয়ে আনলাম।’

সংবাদ সম্মেলনে কিশোররা ফুটবলে মেতে ছিল। সাংবাদিকদের তারা বিভিন্ন ফুটবল কৌশল দেখায়। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটাই প্রথম এবং এটাই শেষ! কিশোরদের আর কোনো গণমাধ্যমের মুখোমুখি করা হবে না।

এর আগে, সাংবাদিকরা তাদের প্রশ্ন লিখিতভাবে জমা দেন। সেসব প্রশ্ন শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা পড়ে দেখেন যেন এসব প্রশ্নের কারণে কিশোরদের কোনো ধরনের মনস্তাত্বিক সমস্যা না হয়। সরকারের মুখপাত্র সানসার্ন কাউকেমেনার্ড সতর্ক করে বলেছেন, কিশোররা বিরক্ত হবে, এমন কোনো প্রশ্ন সংবাদমাধ্যমের করা উচিত নয়।

থাম লুয়াং নন গুহা থেকে উদ্ধারের পর কিশোরদের চিয়াং রাইয়ের একটি ক্লিনিকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়। এখন তারা পরিবার-পরিজনদের সাথে মিলিত হবে।

উল্লেখ্য, বন্ধুর জন্মদিনে বেড়াতে গিয়ে ২৩ জুন উত্তর থাইল্যান্ডের চিয়াং রাইয়ের ‘থাম লুয়াং নাং নন’ গুহায় হারিয়ে যায় ‘ওয়াইল্ড বোয়ার’ নামে এক ফুটবল দলের ১৩ সদস্য। গুহায় আটকে পড়ার ১৭ দিন পর তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় এই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রথম দিন রোববার (৮ জুলাই) চার জন ও পরদিন সোমবার (৯ জুলাই) আরও চার জনকে বের করে আনেন ডুবুরিরা। অভিযানের তৃতীয় ও শেষ দিন মঙ্গলবার (১০ জুলাই) বাকি পাঁচ জনকেও বের করে আনতে সক্ষম হন তারা।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদভারতীয় যুবকের ‘টক টু এ মুসলিম’ হ্যাশট্যাগে ব্যাপক সাড়া
পরবর্তি সংবাদবামদের নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ