গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যে দেশে যেমন

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি বর্তমান বিশ্বের বহুল আলোচিত একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। বলা হচ্ছে, বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই মুক্ত সাংবাদিকতার সুযোগ কমে আসছে। সারা বিশ্বেই গণমাধ্যমগুলো কম-বেশি বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন বন্ধে একের পর প্রতিবন্ধকতা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাংবাদিকদের ওপর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেমন সেটাই এখানে তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাষ্ট্র
বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীন এমনটাই ধারণা করে থাকেন বেশির ভাগ মানুষ। গণমাধ্যম-বিষয়ক আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের (আরএসএফ) ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম-২০১৮ সূচক অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দিক থেকে বিশ্বে যুক্ররাষ্ট্রের অবস্থান ৪৫।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক বছরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে আক্রমণ চালিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে দেশের শত্রু হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

যুক্তরাজ্য
আরএসএফ’র সর্বশেষ সূচকে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ৪০। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য জাতীয় নিরাপত্তার নামে নিয়মিতভাবেই সংবাদপত্রের ওপর হস্তক্ষেপ করে আসছে। দেশটির সরকার ও গোয়ান্দা সংস্থাগুলো সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি চালিয়ে থাকে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

কানাডা
ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম-২০১৮ অনুযায়ী, মুক্ত গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে কানাডার অবস্থান ১৮। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সবসময়ই মুক্ত গণমাধ্যমের কথা বলে থাকেন।

চিন
চিন বরাবরই গণমাধ্যমকে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছে। দেশটির সরকারি মিডিয়া সরকারের নির্দেশেই চলে। অন্যদিকে হাতেগোনা যে কয়েকটি বেসরকারি মিডিয়া রয়েছে, সেগুলোও ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

বর্তমানে দেশটিতে অন্তত ৫০ জন সাংবাদিক বা ব্লগার আটক অবস্থায় রয়েছে। সরকারবিরোধী হিসেবে পরিচিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী লিউ জিয়াওবো এবং ইয়াং টঙ্গান নামের একজন ব্লগার গত বছর আটক অবস্থায় মারা যান।

জাপান
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি জাপানে সাধারণত মুক্ত গণমাধ্যমের নীতিগুলোকে অনুসরণ করা হয়। তবে নিরাপত্তার কারণে দেশটিতে সাংবাদিকদের ওপর কঠোর নজরদারি করা হয়।

এছাড়া বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংবাদ সংগ্রহ করতেও বাধার মুখে পড়ছে সাংবাদিকরা। ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম-২০১৮ অনুযায়ী, মুক্ত গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে জাপানের অবস্থান ৬৭। দেশটির কয়েকটি সাংবাদিক সংগঠন অভিযোগ করেছে, ২০১২ সালে শিনজো অ্যাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গণমাধ্যমের ওপর বেশ কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

সিঙ্গাপুর
আরএসএফ’র সূচকে সিঙ্গাপুরের অবস্থান ১৫১। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে সরকারবিরোধী সংবাদের ক্ষেত্রে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায় দেশটির সরকার। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এমনকি তাদের দেশ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্যও করা হয়। সিঙ্গাপুরের প্রশাসন যেকোনো সংবাদ সেন্সর করারও ক্ষমতা রাখে। দেশটিতে প্রচলিত কয়েকটি আইনে সাংবাদিকদের ২১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডেরও বিধান রাখা হয়েছে।