গ্রামের ধর্ম ও ধার্মিকতা

কাজী মাহবুবুর রহমান 

গ্রামের মানুষের জীবনের সঙ্গে ধর্মের আবহ খুব নিবিড়ভাবে মিশে আছে ৷ ব্যক্তিগত জীবনে হয়ত অনেকেই ধর্মীয় অনুশাসন সসম্পূর্ণরূপে মেনে চলতে পারেন না৷ কিন্তু মত মনের গহীনে লুকানো শ্রদ্ধা, ভয় ও ভালবাসা সব সময় গোপন প্রহরীর মত জেগে থাকে। অবিশ্বাস ও ঔদ্ধত্য তাদের গ্রাস করেনা৷

বাংলাদেশের গ্রামের সংস্কৃতিকে খুব অরাজনৈতিক এবং সরল ভেবে নেয়ার কিছু নেই। শহরের মত এতটা অতর্কিত না হলেও অনেক রাজনীতির রেশ তারা দীর্ঘদিন জিইয়ে রাখেন৷ এবং এসবের পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন জীবনে স্রোতের মত ধর্মীয় কালচার বয়ে চলে।

গ্রামের ধর্মের মুলচরিত্রটি হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক। যে প্রতিষ্ঠান তাকে ছায়া ও শক্তি দেয়। গ্রামে নিরেট খোদাভীতি থেকে ধর্ম মেনে চলা মানুষের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে কি? যাচ্ছে বটে৷

মূলধারার ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রাম শুরু থেকে সংযুক্ত থাকলেও অনেক গ্রামই একটা সময় নিজেদের মত কিংবা কোন পীর আউলিয়ার আদর্শমতে নিজেদের জন্য ধর্ম তৈরী করে নিয়েছেন৷ সেসব অঞ্চলে সেই ধর্ম প্রতিষ্ঠা পেতে পেতে মূল ইসলামের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে৷ এবং তারা তা আকড়ে রেখেছেন যে কোন মুল্যে। এসব বিশ্বাস ইসলামের আদলে চললেও বলা বাহুল্য এর মাধ্যমেই ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে অনেক৷

বহুবিধ শিরক ও বিদআতের জন্ম নিয়েছে৷ ইসলামের ভেতর অনেক শিথিলতা স্থান পেয়েছে, যা সমর্থনযোগ্য নয়৷ এসবের পেছনে একটা কারণ হতে পারে, ইসলামের মূলধারার শিক্ষাকেন্দ্র সব শহরমুখী। সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্র _ প্রাইমারী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত হাতের নাগালে, তবে বাংলাদেশের ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে তা এখনো হয়ে ওঠেনি৷ দারিদ্র এবং ধর্মীয় জ্ঞান স্বল্পতার ফলে তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও বিধিনিষেধে অনেক হেরফের এসে গেছে।

খুব সহজেই ঢুকে গেছে পর্দাহীনতা, শিরক, সুদ ইত্যাদি৷ তবে এটা সত্যি, ক্রমে ক্রমে গ্রামেও অনেক ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে৷ মসজিদ গুলোতে শুদ্ধ ইমামের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের শৈশব তথা একুশ শতকের গোড়ার দিকেও মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা যা ছিল, গত বিশ বছরে তা বেড়ে প্রায় তিনগুন হয়েছে, এই স্ট্যাটিস্টিক্স অবশ্যই আশা ও আনন্দের৷

তবে গ্রামের মানুষের এই ধর্মীয় অনুরাগ সঠিক পথে প্রবাহিত হোক, এই প্রত্যাশা আমাদের। আলেমরা এ জাতির সবচেয়ে নিঃস্বার্থ সন্তান। তারা এই ক্ষেত্রটিতেও গুরুত্বের সঙ্গে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসবেন। আল্লাহ কবুল করুন৷