
মুসান্না মেহবুব
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ধর্মমন্ত্রণালয়ে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে তাবলিগের বিবদমান উভয়পক্ষের অংশগ্রহণে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের দিন ও তারিখ নির্ধারণের চূড়ান্ত ফায়সালা হয়। সাদপন্থীরা এক সঙ্গে ইজতেমা করতে না চাওয়ায় এবং বারবার এ বিষয়ে লবিং ও চাপ প্রয়োগ করায় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী উভয়পক্ষের সম্মতিতে তিনদিনের ইজতেমাকে চারদিনে নিয়ে যান। এবং আলেমপন্থীদের জন্য প্রথম দুইদিনের নেতৃত্ব ও সাদপন্থীদের জন্য দ্বিতীয় দুইদিনের নেতৃত্বের ফায়সালা দেন।
আরও পড়ুন : তিনদিনের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে চারদিনে, নেতৃত্ব হয়েছে ভাগাভাগি
সে অনুযায়ী আগামী ১৫ ফ্রেব্রুয়ারি ইজতেমা শুরু হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতের মধ্যেই ইজতেমার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবার কথা। যেখানে আলেমপক্ষ ১৫ ও ১৬ তারিখ আর সাদপন্থীরা ১৭ ও ১৮ তারিখ ইজতেমা পরিচালনা করবেন। কিন্তু সাদপন্থীদের উঁচু পর্যায়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁরা ইজতেমা সমাপ্ত করবেন ১৯ তারিখ জোহরের সময়। ১৯ তারিখ বাদ ফজর যথামাফিক বয়ান করা হবে। তারপর দুপুরের দিকে হবে আখেরি মোনাজাত।
কিন্তু ধর্মপ্রতিমন্ত্রী গত ৫ ফেব্রুয়ারির বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন ১৮ তারিখের ভেতর ইজতেমার যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে হবে, অথচ আপনারা ১৮ তারিখ পার করে ১৯ তারিখ দুপুরে আখেরি মোনাজাত করার কথা বলছেন, এমনটা কীভাবে হচ্ছে জানতে চাইলে সাদপন্থীদের নেতা মাওলানা জিয়া বিন কাসিম বলেন, এটা আমরা ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর অবগতিক্রমেই করছি। ভরপুর দুদিন ইজতেমার আমল হবে, তৃতীয় দিন মোনাজাত হবে। এখানে সমস্যার কিছু নেই।
সাদপন্থীদের এই সিদ্ধান্তকে বৈঠক-বহির্ভূত সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অনেকেই। তাছাড়া সরকারি পৃষ্ঠপোষণে গৃহীত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ইজতেমার নির্ধারিত তারিখ থেকে একদিন বিলম্ব করে ইজতেমা সমাপ্ত করার সিদ্ধান্তে জনমনেও একটা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা অনেকের। তাঁরা বলছেন, তবে কি সাদপন্থীরা নিজেদের জেদকে ষোলো আনাই বাস্তবায়ন করছেন?
