একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ইসলামি আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শীর্ষ পাঁচ প্রার্থী

ওমর ফারুক

বাংলাদেশের বৃহৎ কয়েকটি ইসলামি দলের মাঝে ‘ইসলামি আন্দোলন’ নামটি শীর্ষস্থানীয়। নানা কারণে ইসলামি রাজনীতিতে ‘ইসলামি আন্দোলন’ একটি আলোচিত নাম। কোনো জোট ছাড়াই গত কয়েকটি নির্বাচনে তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিয়ে যাচ্ছে দলটি। অপরদিকে শাইখুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক (রহ.) প্রতিষ্ঠিত দল ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস’। একসময়ের আলোচিত দল। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দলটি ২০০১ সালে নির্বাচনে চার দলীয় জোটে ইসলামী ঐক্যজোটের অংশ  হয়ে লড়েছিল। বেশ কয়েকটি আসনে জয়ী হয়েছিল এ দলের প্রার্থীরা। তবে এ দলটি বর্তমানে দু’ভাগে বিভক্ত। একটি অংশের নেতৃত্বে ছিলেন সদ্যপ্রয়াত প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান (রহ:), অপর অংশটি মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে শাইখুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক (রহ.) প্রতিষ্ঠিত অংশটি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’র সঙ্গে নির্বাচনি গাঁটছড়া বেঁধেছে, অপর অংশটি বিশ দলের সঙ্গে রয়েছে।

মুফতি ফজলুল করীম (রহ.) প্রতিষ্ঠিত ‘ইসলামি আন্দোলন’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নারী নেতৃত্ব হারাম ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের প্রধান দুটি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধতা থেকে বিরত রয়েছে। মাঝখানে জাতীয় পার্টির সঙ্গে নির্বাচনি জোটে গেলেও বর্তমানে একেবারেই জোটের রাজনীতি থেকে বের হয়ে এসেছে দলটি। বিগত কয়েক বছর যাবত দলটি সিটি নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট অর্জন করায় জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় উঠে এসেছে। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলটি আশানুরূপ ভোট পাবে বলে দলটির নেতাকর্মীরা মনে করছেন। ফাতেহ২৪-এর অনুসন্ধানে দলটির শীর্ষ পাঁচ প্রার্থীর নাম উঠে এসেছে, যাদের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ইসলামি আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্ব। ইসলামি আন্দোলনের শীর্ষ পাঁচ প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন: মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম (বরিশাল-৫ ও ঝালকাঠি-২), হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ (খুলনা-৪), মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী (ঢাকা-৪), আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন (ঢাকা-৫) এবং মাওলানা মুফতি হাবিবুর রহমান (পটুয়াখালী-৪)। তাদের ওপর নেতাকর্মীদের এ প্রত্যাশার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল ফাতেহ২৪-এর পক্ষ থেকে। কী কারণে দল তাদের সম্ভাবনাময় মনে করছে এমন প্রশ্নে দলটির একাধিক সূত্র জানায়, প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক অবস্থা, সাংগঠনিক দায়িত্ব ও দক্ষতা বিবেচনা করেই তাদের সম্ভাবনাময় মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বিগত সিটি নির্বাচন, পৌর নির্বাচন ও ইউপি নির্বাচনগুলোতেও তাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য জাতীয় নির্বাচনেও জয়ের বার্তা দিচ্ছে।

এদিকে ‘জাতীয় সম্মিলিত জোট’ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৫০ প্রার্থী। যাদের তালিকা ইতিমধ্যেই দলটি চূড়ান্ত করেছে। তাদের মাঝে শীর্ষে রয়েছেন: মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী (নরসিংদী-৫), মাওলানা যোবায়ের আহমদ আনসারী (বিবাড়ীয়া-১), মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ (শরীয়তপুর-১), মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন (কিশোরগঞ্জ-৫) ও মুফতি শরাফত হুসাইন (ফরিদপুর-১)। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, তাদের অনেকেরই দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অতীত ফলাফল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাদের ইতিবাচক ফলাফলে সহায়ক হবে। এছাড়া দলটি সম্মিলিত জাতীয় জোটের সঙ্গেও রয়েছে। এটি তাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। তবে যদি সম্মিলিত জাতীয় জোট মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচনে যায় তাহলে তো তাদের জয়ের সম্ভাবনা শত ভাগই বলা যায়।

এদিকে বিশদলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিস মনোনয়নের জন্য তাদের ৩৫ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করেছে বলে জানিয়েছে দলটির একাধিক সূত্র। তাদের মধ্যে ১১ জনের নাম বিশ দলের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জোটের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হবে কাদের নমিনেশন দেওয়া হবে। এ দলটিও তাদের শীর্ষ চার নেতার তালিকা ফাতেহ২৪-কে দিয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন: দলটির মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের (হবিগঞ্জ-৪), মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন (খুলনা-৪), মুহাম্মদ মুনতাসির আলী (সিলেট-২), আলহাজ্ব দিলওয়ার হোসাইন (সিলেট-৩)। এ বিষয়ে মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের চরম ভরাডুবি হবে। গুম, হত্যা, জেল জুলুম নির্যাতনে অতিষ্ঠ দেশবাসী কোনভাবেই আর এ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আমরা মনে করছি আমাদের সাংগঠনিক শক্তি ও তৎপরতা প্রার্থীদের জয়ের মুখ দেখাবে। আমাদের প্রার্থীদের নিজস্ব কিছু ভোটব্যাংকও রয়েছে। এছাড়া এলাকায় তারা জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে দীর্ঘ দিন ধরেই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।’

আগের সংবাদপুলিশকে নির্দলীয় আচরণের নির্দেশ
পরবর্তি সংবাদনির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন ইমরান এইচ সরকার