জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ত্যাগ, যুক্তরাষ্ট্র কি বার্তা দিতে চাচ্ছে?

ইসরায়েল প্রশ্নে মীমাংসা না হওয়ায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ছাড়লো যুক্তরাষ্ট্র। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এই কাউন্সিলের অবস্থান পছন্দের নয় যুক্তরাষ্ট্রের। জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, ‘ভণ্ড ও নিজ স্বার্থে পরিচালিত’ এই কাউন্সিল আসলে ‘মানবাধিকারের নামে রসিকতা করে’।গত বছরও এই কাউন্সিলকে ‘ইসরায়েল-বিরোধী’ আখ্যা দিয়েছিলেন হ্যালি।

প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ধারাবাহিক ইসরায়েলবিদ্বেষী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এখান থেকে সরে না আসলে যুক্তরাষ্ট্র কমিশন ছেড়ে যাবে। কমিশন ছাড়ার ঘোষণা দিতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হ্যালি বলেন, কাউন্সিলটি ‘মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে খুবই দুর্বল সংগঠন।’

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জেনেভাভিত্তিক এই কাউন্সিলটির সদস্য দেশগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তাদের অবস্থান নিয়ে সমালোচিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী অনৈতিক দখলদারিত্ব ও নিপীড়নকে এর আলোচ্যসূচির স্থায়ী বিষয়বস্তু হিসেবে রেখেছে ওই কাউন্সিল। বুশ প্রশাসনের সময় প্রতিষ্ঠা-পরবর্তী ৩ বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কাউন্সিলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেনি। তবে ওবামা শাসনামলে ২০০৯ সালে ওয়াশিংটন কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত হয়।

তবে জাতিসংঘ পশ্চিমা রাষ্ট্রপুঞ্জের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের মতো এক পশ্চিমা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র কেন জাতিসংঘের মানবাধিকার ফোরাম থেকে বেরিয়ে গেল, এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল প্রসঙ্গে কোন ছাড় দিতে রাজী নয়। মানবাধিকারের আলাপে থেমে যেতেও রাজী নয়। তবে বৈদেশিক হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে মানবাধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করা বন্ধ করবেনা। ঠিক যেমন পারমাণবিক বোমা নিয়ন্ত্রণ ফোরামের সদস্য না হলেও যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী রাষ্ট্রগুলোর ওপর পারমাণবিক বোমা ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট ফোরামের মাধ্যমে চাপ অব্যাহত রেখেছে।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদযে কারণে কিডনিতে পাথর হয়
পরবর্তি সংবাদতুরস্কের নির্বাচনে সিরীয় ভোটার, এরদোগানের লাভ নাকি ক্ষতি?