তুরস্কের নির্বাচনে সিরীয় ভোটার, এরদোগানের লাভ নাকি ক্ষতি?

তুরস্কের নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। সেইসাথে নানা রকম জল্পনা-কল্পনাও ডালপালা ছড়াচ্ছে। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বেন আলী ইলদেরিম জানিয়েছেন, তারা ত্রিশ হাজারের মতো সিরিয়ানকে তুরস্কের নাগরিকত্ব দিয়েছেন। খবর তুরস্ক ভিত্তিক টিভি চ্যানেল এনটিভির। অবশ্য বেসরকারি হিসেব মতে এই সংখ্যাটা আরও বেশী। সত্তর হাজারের মতো সিরিয়ানকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবী করছেন বেসরকারি পর্যবেক্ষকরা।

আগামী নির্বাচনে এই  ইস্যু কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে? 

এরদোগান বিরোধী প্রার্থীদের অনেকেই দাবী করছেন, সিরিয়ান শরণার্থীদের মাধ্যমে তুরস্ক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ও হচ্ছে। সাড়ে তিন মিলিয়ন শরণার্থীর চাপ বহন করতে হচ্ছে তুরস্ককে। একইভাবে নানারকম সামরিক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে তাদের। এ কারণে তারা শরণার্থীদের বহিষ্কার থেকে শুরু করে সিরিয়ার আসাদ সরকারের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নেরও প্রস্তাব দিচ্ছেন।

অবশ্য এরদোগানের একে পার্টি দাবী করছে, প্রধানত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তারা এই বিপুল শরণার্থী গ্রহণ করেছেন। অর্থনৈতিকভাবেও এর গুরুত্ব অনেক। তুরস্কের জনসংখ্যা খুব বেশী নয়। ফলে সিরিয়ান মেধাবী ও ব্যবসায়ীদের নাগরিকত্ব দানের মাধ্যমে তুরস্ক নিজেও বেশ উপকৃত হতে পারে। তার অংশ হিসেবেই ত্রিশ হাজারের মত মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। একে পার্টি এক সিরীয় শরণার্থীকে সংসদীয় মনোনয়নও দান করেছে।

‘তুরস্ক এখন আঞ্চলিক শক্তি, পশ্চিমা বর্গের কোন রাষ্ট্র নয়’

আধুনিক তুরস্কের বয়স খুব বেশী দিন না হলেও তুরস্কের রাজনৈতিক কাঠামোর ইতিহাস দীর্ঘদিনের। উছমানী খেলাফতের ঐতিহ্য তুরস্কের নাগরিকরা এখনো মনে রেখেছেন। সেই মোতাবেক তারা নিজেদেরকে আঞ্চলিক কৌশলগত শক্তি হিসেবে দাড় করাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ । এ কারণে অনেকেই এরদোগানপন্থীদের নিউ উছমানী হিসেবে অভিহিত করছেন।

সিরিয়ার সংঘর্ষে তুরস্ক আঞ্চলিক সামর্থ্য প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। একদিকে কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ , অপরদিকে নির্যাতিত তুর্কমান ও আরবদের রক্ষা, ইরান-সৌদি-কাতারের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক, সিরিয়া ও ইরাকে সামরিক হস্তক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক, এসবকিছুতে তুরস্ক বেশ সফলতা দেখিয়েছে। একুশ শতকের তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতির জনক সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাউদ উগলুর কৌশলগত গভীরতার আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

ভোটাররা কি ভাবছেন?

উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সেকুলারদের শরণার্থী প্ররোচনায় ভোটাররা বিভ্রান্ত হবার আশংকা থাকলেও এখনো পর্যন্ত যেসব জনমত জরিপ করা হয়েছে, তাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এরদোগানকে এগিয়ে থাকতেই দেখা গেছে। অবশ্য পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচন এরদোগানের জন্য মোটেই সহজ নির্বাচন হবেনা।

শেষ পর্যন্ত কি হচ্ছে, তার জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে আরও বেশ কয়েক দিন।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদজাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ত্যাগ, যুক্তরাষ্ট্র কি বার্তা দিতে চাচ্ছে?
পরবর্তি সংবাদরোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের খরচ