নির্বাচনে জয়ী হলে হাটহাজারীকে মেগা সিটিতে রূপান্তর করবো : মঈনুদ্দীন রুহী

ওমর ফারুক

মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী। ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মাওলানা আব্দুল লতিফ নিজামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী। ইসলামী ঐক্যজোটের  শীর্ষ প্রার্থীদের মাঝে তিনিও একজন। তার ব্যাপারে দলেরও আস্থা আছে। তিনি দলের হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন এমন বিশ্বাস দলটির শীর্ষ নেতাদের।

আলেম উলামাদের নগরী হাটহাজারী শহর। ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী মাদরাসাও এ নগরে। মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহীর রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। তৃণমূল থেকেই তিনি রাজনীতির সূচনা করেছেন। ‘সেবা ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। ক্ষমতায় না থেকেও তিনি হয়ে উঠেছেন হাটহাজারীবাসীর প্রিয় নেতা।’ নির্বাচনী ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সময় দিয়েছেন ফাতেহ২৪ কে। তুলে ধরেছেন নির্বাচনী এলাকাকে নিয়ে তার স্বপ্নগুলো। ‘যেন হাটহাজারীর উন্নয়ন ও কল্যাণেই তার জীবনের স্বার্থকতা। ইসলামের জন্য দরদভরা কণ্ঠ তাঁর। বুকে জালিমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার শক্তি।’ এ প্রতিবেদকের কাছে অনেকটা এমন অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী।

তাঁর কাছে আমাদের প্রথম প্রশ্ন ছিল একজন আলেম হিসেবে কেন রাজনীতিতে এলেন? এ বিষয়ে মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী বলেন, দেখুন, সংসদ হচ্ছে আইন তৈরির মাধ্যম। এ সংসদেই আইন পাস করা হয়। সেখানে ইসলামের পক্ষের আইনও পাস হয় আবার ইসলামের বিরুদ্ধেও আইন পাস হয়। অতএব, সংসদে আলেমদের প্রতিনিধিত্ব না থাকলে ইসলামের বিরুদ্ধবাদীদের প্রতিরোধ ও ইসলামের পক্ষে বলার মানুষ থাকবে না। এছাড়া রাজনীতি করাকে আমি ইবাদত মনে করি। কুরআন হচ্ছে আল্লাহর বিধান। আল্লাহর এ বিধানকে আল্লাহর জমিনে বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনীতিই বড় শক্তি। সংসদে রাজনীতিবিদদের অজ্ঞতার কারণে যদি কোনো ইসলাম বিরোধী আইন পাস হয়ে যায় এর দায় কে বা কারা নিবে? এছাড়া ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রতিবাদ, নবী (সা.) এর ইজ্জত রক্ষার জন্যও আলেমদের সংসদে যাওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

প্রধান দুই বিরোধী দলকে টপকিয়ে আপনি কীভাবে জয়ী হবেন বলে মনে করেন? এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার আসনটি হচ্ছে আলেম ওলামা ও ধর্মপ্রাণদের এলাকা। এ এলাকায় আজ পর্যন্ত কোনো অপশক্তি বা জুলুমবাজ ব্যক্তি ভোটে জয়ী হয়নি। এ আসনে অধিকাংশ সময় বিএনপির জয় হয়েছে। তবে বর্তমানে তারা ভালো অবস্থানে নেই। দ্বিতীয়ত আওয়ামী লীগ নেতাদের মাঝেও এ এলাকা নিয়ে বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়া এরশাদ সাহেবের দলের প্রার্থী এ এলাকায় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আ.লীগের অনেক নেতাই বিষয়টি নিয়ে বিদ্রোহ করতে পারে। তারাও চাইবে না এরশাদ সাহেবের প্রার্থীর এ এলাকায় জয় হোক।

নির্বাচিত হলে আপনার এলাকার মানুষের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতি কী থাকবে? এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে আমার এলাকাকে প্রথমে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা। জঙ্গিবাদমুক্ত হাটহাজারী গড়া। এছাড়া এখনো আমার এলাকার মাইলের পর মাইল রাস্তাঘাট উন্নয়ন হয়নি, উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এসব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করাই আমার প্রধানতম কাজ হবে। এছাড়া হাটহাজারীকে একটি মেগা সিটিতে রূপান্তর করবো ইনশাআল্লাহ।  পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও মৎস প্রজনন কেন্দ্রগুলোকে আরও উন্নত করা হবে। হালদা নদীর ২০ মাইল পার ঘেঁষে যে মৎস প্রজননকেন্দ্র গড়ে উঠেছে এগুলোর আরও উন্নয়ন করা হবে। আমার এলাকায় চট্টগ্রামের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্মি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। যা সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এগুলোরও যথাযথ আধুনিকায়ন করা হবে।

নির্বাচনে জিতলে ইসলামের জন্য আপনি কী করবেন? এ বিষয়ে তিনি বলেন, ইসলাম ও আলেম উলামাদের কল্যাণে কাজ করাই আমার জীবনের লক্ষ্য। হাটহাজারীতে আরও দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। সংসদেও ইসলাম ও আলেমদের পক্ষে ভূমিকা রাখার চেষ্টা থাকবে। এর জন্য আমি আলেম ওলামা ও জনগণের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। তাদের সুখে দুঃখে এগিয়ে গিয়েছি। দুর্যোগেও পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ফলে তাদের আস্থাভাজনেও পরিণত হয়েছি। আমার বিশ্বাস তাদের কল্যাণের জন্যই তারা আমাকে নির্বাচিত করবেন।