
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
গত বৃহস্পতিবার ভারত কর্তৃক দখলকৃত কাশ্মীরের পুলওয়ামা এলাকায় স্বাধীনতাকামী এক যুবকের আত্মঘাতী বোমা হামলায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর ৪৪ জওয়ান নিহত হবার পর নির্বিচারে নিপীড়ন চলছে কাশ্মীরি মুসলমানদের ওপর। প্রতিশোধে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
আজ সোমবার সকাল ৮:৪৫ মিনিটে ওই এলাকায় স্বাধীনতাকামীদের পাকড়াও করতে বিশেষ অভিযানে নামে যৌথবাহিনী। এ সময় স্বাধীনতাকামীদের গুলিতে এক মেজরসহ আরও পাঁচ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতাকামীদেরও দুই সদস্য শহিদ হয়েছেন। তারা সশস্ত্র সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলেন, তবে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গুলি বিনিময় চলছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও এনডিটিভির খবরে জানা গেছে এসব তথ্য।
এনডিটিভি আরও জানিয়েছে, নিহত দুই স্বাধীনতাকামীদের মধ্যে একজন বহস্পতিবার পুলওয়ামা আত্মঘাতী হামলার বোমা তৈরি করেছিলেন।
খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় বাহিনীর সদস্যরা যখন একটি বাড়ি টার্গেট করে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন স্বাধীনতাকামীরা এলোপাতাড়ি গুলি করলে পাঁচ সেনা নিহত হয়। এছাড়াও আরও পাঁচজন আহত হলে তাদের শ্রীনগরের ৯২ বেইস হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জম্মু শহরে গত চার দিন ধরে কারফিউ চলছে। সেখানে কাশ্মীরি মুসলমানদের বাড়িঘরে হামলা ও ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। সেখানকার হাজার হাজার বাসিন্দা হয় পালিয়ে হিমালয় উপত্যকায় চলে গেছেন নয়তো ত্রাণশিবিরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
পৃথিবীর সবচেয়ে সামরিক অঞ্চলের একটি হচ্ছে কাশ্মীর। ১৯৮৯ সাল থেকে ছড়িয়ে পড়া স্বাধীনতাকামীদের ন্যায্য বিদ্রোহ দমন করতে সেখানে পাঁচ লাখ ভারতীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানের নামে ভিবিন্ন সংঘর্ষ বাঁধিয়ে এ পর্যন্ত হাজার হাজার বেসামরিক লোককে হত্যা করেছে ভারতীয় সৈন্যরা। কেবল ২০১৬ সাল থেকে ৬০০ জন নিহত হন। গত কয়েক দশকে এটিই সর্বোচ্চ নিহতের সংখ্যা।
এইচআর/
