কাশ্মিরে আবার হামলা, শিকার ১৮ মাসের শিশুও

মেহেদি হাসান আল মুরাদ

দীর্ঘ ৭১ বছর ধরে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনতাকে নানান উপায়ে দমন নিপীড়ন চালিয়ে আসছে দখলদার ভারত। তারই রেশ ধরে চলমান আগ্রাসনের শিকার হয়েছে বেশ কিছু কাশ্মীরি!

সুত্র জানায়, স্থানীয় এক কৃষকের বাড়িতে শনিবার  মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অপারেশন চালায়, যা বিগত ৩ দিনের মধ্যে ২য় অপারেশন। উক্ত অপারেশনে ৬ জন স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র যোদ্ধা শহীদ হয়।

বাসিন্দারা জানায়, উক্ত ঘরটি বিস্ফোরন ঘটিয়ে ধবংস করে দেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে আসে ও ভারতবিরোধী স্লোগানে বাড়ির দিকে যাত্রা করেন। এই উত্তপ্ত জনতাকে দমন করতে ভারতীয় প্রশাসন ওপেন ফায়ারিং শুরু করে, যার দরুন বেসামরিক কাশ্মীরি নিহত হয় বেশ কিছু গুরুতর আহত হয়!

সূত্র জানায়, হাজারের উপর নারীই উপস্থিত ছিল। দশ হাজার পুরুষ ছিল , এ জন্য ৮ বার জানাজা পড়তে হয়েছে।

স্থানীয় এক  কিশোর নুমান আশরাফ (১৫) উক্ত সংঘর্ষে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। বেশ কয়েকজন আহত হয়। তার বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

২০ জনের মতন পেলেট বুলেটে আহত হয়। তার মধ্যে ১৮ মাসে শিশুও ছিল, তার ডান চোখে গুলি বিদ্ধ হয়!

এর আগের অপারেশনে ৯ শ্রেণীর ছাত্রী মুসকান(১৪) মাথায় মারাত্নক আঘাত প্রাপ্ত হয়, তাকে কোমায় রেখে চিকিৎসা করা হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করে!

উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায়, কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকে আর ছড়িয়ে দেওয়া বন্ধ করার জন্য জেলাগুলিতে ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করে বলে কর্মকর্তারা জানান।

দক্ষিণ কাশ্মীরে বসবাসকারীরা প্রায়শই নিরাপত্তা বাহিনীর অপারেশনের সময় রাস্তায় বেরিয়ে আসে, মুক্তিযোদ্ধাদের পালাতে সাহায্য করে।

তবুও মঙ্গলবার থেকে তিনটি অপারেশনে ১৬ স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। “রুটিন বন্দুকযুদ্ধ” সম্পর্কে সচেতন হলেও, দক্ষিণ কাশ্মিরের অধিবাসীরা সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের আগলে দাঁড়ায়।

৪৫ বছর বয়সী গুলশান নাজির আল জাজিরাকে বলেন, “তারা তাদের সন্ত্রাসী বলে ডাকতে পারে, কিন্তু তারা আমাদের সন্তানদের অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। হাজার হাজার লোক এই যুদ্ধক্ষেত্রকে রক্ষা করার জন্য বুলেটের মুখোমুখি হতে পারে এবং ভারতের জন্য চোখ খুলে দিতে পারে।”

তিনি বলেন, “এই অবিচার ও নিপীড়ন বেসামরিক ও বিদ্রোহীদের মধ্যে পার্থক্য করে না। তারা এমন একটি শিশুকেও ছেড়ে দেয়নি, যা তার চোখের পাতা ছিদ্র করে আঘাত করেছিল।”

আগের সংবাদযে ৬ আসনে ইভিএম ব্যবহার হবে
পরবর্তি সংবাদমানবতাবিরোধী অপরাধী আপিলে দণ্ড স্থগিত ইস্যু