কী আছে স্বীকৃতির খসড়া আইনে?

ফাতেহ ডেস্ক ঃ 

কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজ-আরবিতে মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি এসেছে আগেই। ১৩ আগস্ট সোমবার মন্ত্রীসভায় এই সংক্রান্ত খসড়া আইনটি পাস হয়। তবে এই খসড়া আইনে কী আছে, এটা এখনো জনসম্মুখে আসেনি। ফলে অনেকের মধ্যে এ নিয়ে সংশয় ও ভীতিও কাজ করছে। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা দাবি করছিলেন এতে ভয়ের কিছু নেই। কওমি মাদরাসার চলমান স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেই আইনটির খসড়া প্রস্তাবিত হয়েছে।

ব্যাপক শঙ্কা ও সংশয়ের প্রেক্ষিতে ফাতেহ ২৪ – এর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিশেষ অনুসন্ধান চালানো হয়। এক পর্যায়ে খসড়া আইনের কপি পাঠ ও পর্যালোচনারও সুযোগ হয়।

সহকর্মী জুনায়েদ ইশতিয়াক জানান, আগে কিছু শঙ্কা ও সংশয় থাকলেও আপাতত যে খসড়া আইন প্রস্তাবিত হয়েছে, তাতে বিশেষ ভয়ের কিছু নেই। আলেমদের সব দাবি মেনেই খসড়াটি প্রস্তাবিত হয়েছে।

‘ এই খসড়ার একটা বড় অংশে আছে সনদের অভিভাবক সংগঠন আল হাইয়াতুল উলইয়া বাংলাদেশের কার্যক্রমের প্রক্রিয়া ও পরিধির আলোচনা। এখানে কোন কোন বোর্ড থাকবে, কার্যালয় কোথায় হবে, এর কমিটিতে কারা থাকবেন ও কমিটির কার্যকাল-কার্যাবলী কী হবে, এসব বিষয় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।’ জুনায়েদ ইশতিয়াক যোগ করেন।

‘ কমিটির সদস্য কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টরাই হবেন। মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের চলমান কাজগুলোই তারা করবেন। নতুন কোন কার্যক্রম বা দায়িত্বের কথা এই খসড়ায় আসেনি।’

এর কার্যক্রমের ব্যাখ্যায় লেখা হয়, ‘এই প্রতিষ্ঠান দেওবন্দের নীতি, আদর্শ ও নেসাব মেনে চলবে।’

নীতি ও আদর্শ কি অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে জুনায়েদ জানান, খসড়ার শুরুতেই দেওবন্দি নীতির ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে ঈমান, তাকওয়া ও তাওয়াক্কুলকে মূল ভিত্তি বানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত, চার মাজহাবের প্রতি সম্মান রেখে হানাফি মাজহাব, সুলুকের চার তরিকা ও উপমহাদেশের ওয়ালিউল্লাহি ঘরানার ঐতিহাসিক চিন্তাধারার অনুসরণ, এসব বিষয়কে দেওবন্দি নীতির ব্যাখ্যায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি হকপন্থী সবার প্রতি উদার মানসিকতা রাখা হবে, এটাও এখানে আছে।

খসড়ায় শুরুতে বলা হয়, ‘এই আইন আল হাইআতুল উলয়া লিল জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীন ‘ কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস ( তাকমীল ) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি ( ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি ) এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮ এই নামে অভিহিত হবে।’

শেষে বলা হয়, ‘এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণের স্বার্থে এই আইনে উল্লেখিত যে কোন বিষয়ে কমিটি কর্তৃক বিধি ও সংবিধি প্রণয়ন করা যাইবে।আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাবে।’