কওমি সনদ অনুমোদনে সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস

ওমর ফারুক

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিতে আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পরই কওমি অঙ্গনে উচ্ছ্বাস ও আনন্দের অভিব্যক্তি ছড়িয়ে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ দেশের আলেমসমাজ। একইসঙ্গে কওমি শিক্ষার্থীদের মাঝেও দেখা গেছে আনন্দ প্রকাশক আলোচনা। কেউ কেউ অবশ্য আনন্দের পাশাপাশি সতর্ক প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন। ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী আলেম, লেখক, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষার্থীরা। ফাতেহ২৪ – এর পাঠকদের জন্য তাদের কিছু প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো,

জাতীয় বোর্ড বেফাকের নির্বাহী সদস্য ও নরসিংদী জেলার আহ্বায়ক মাওলানা ইসমাইল নুরপুরী জানিয়েছেন, ‘মন্ত্রীসভায় কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ। আমরা আশাবাদী আগামী দিনেও তিনি ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাবেন। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা করছি। ’

দেশের ইসলামি চিন্তাবিদ ও লেখক উবায়দুর রহমান খান নদভী এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘কওমী স্বীকৃতির জন্য দাতাদের ধন্যবাদ। এবার সংবিধানে আল্লাহর নামটি বসিয়ে দিন। তার উপর আস্থা ও বিশ্বাসটুকু ফিরিয়ে আনুন। দরকার পরিমান ভোট পেয়ে যাবেন।’

মুফতী ফয়জুল্লাহ লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন, জাযাকুমুল্লাহ আহসানাল জাযা। শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. এর প্রতি কৃতজ্ঞতা অভিনন্দন। কৃতজ্ঞতা অভিনন্দন … গাজী ইয়াকুব লিখেছেন, অবশেষে কওমি সনদ সরকারি স্বীকৃতি পেল আলহামদুলিল্লাহ। সংশ্লিষ্ট সকলকে যাজাকুমুল্লাহ।

ইসলামি লেখক ফোরামের সভাপতি জহির উদ্দিন বাবর লিখেছেন, ‘প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার সাহস শেখ হাসিনার আছে। কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতির বিষয়টি চূড়ান্ত ধাপে নিয়ে সেটা আবার প্রমাণ করলেন।’

লেখক আলী হাসান তৈয়ব লিখেছেন, ‘কওমি সনদের স্বীকৃতি নির্বাচনের আগেই সংসদে পাশ হোক, তখন সরকারের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করব। আপাতত দাবি একটাই: আমাদের তেমন কোনো চাওয়া নেই রাষ্ট্রের কাছে, শুধু চাই ওই দুটি সাবজেক্টেই কওমির ছেলেরা পৃথিবীর সব বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন সুযোগ পায়। দেয়া হয় পিএইচডির সুযোগ। আলিয়ার ভায়া হয়ে নয়, সরাসরি আমাদের ছেলেরা আরবের জামেয়াগুলোতে ভর্তিপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার সুযোক পাক।’ লেখক সৈয়সদ শামসুল হুদা লিখেছেন ‘স্বীকৃতির একটি ধাপ অতিক্রম হলো। এজন্য সংশ্লিষ্টদের মোবারকবাদ। তবে এটা সংসদে পাশ না হওয়া পর্যন্ত মনে হয় চূড়ান্ত খুশি হওয়া সম্ভব না।’

আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর অনলাইনের নির্বাহী সম্পাদক রোকন রাইয়ান লিখেছেন, ‘কওমি আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ মন্ত্রিসভার বেঠকে এটি উত্থাপন করা হলে সর্ব সম্মতভাবে পাস হয়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন। তবে বিলটি এখনো দেখার সুযোগ হয়নি এবং তাতে কী আছে সে বিষয়ে কওমি কর্তৃপক্ষও পুরোপুরি অবগত নন। আর রাজনীতির মারপ্যাঁচ বলে যেহেতু একটা কথা আছে তাই এ আইনের সুফল বিষয়ে আলোচনা করতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে’