মুফতি আমিনীর আদর্শ কতটা ধরে রাখতে পারছে ইসলামী ঐক্যজোট?

হামমাদ রাগিব

আজ বুধবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৮। বাংলাদেশের ইসলামি আন্দোলন-সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব আল্লামা মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ইনতেকালের ছয় বছর হল আজ। এই ছয় বছরে তাঁর নেতৃত্বে সংগঠিত ইসলামী ঐক্যজোট কতটা সফল হতে পেরেছে, তাঁর অভিভাবকত্বের ছায়া হারিয়ে দলটি কীভাবে আঞ্জাম দিচ্ছে নিজেদের কর্মকাণ্ড এবং মুফতি আমিনীকে হারিয়ে দলটি ঠিক কী কী জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে, মুফতি আমিনী একা এক ব্যক্তি কীভাবে এতটা পাওয়ারফুল নেতৃত্ব দিয়ে গেলেন পুরো দেশ জুড়ে, এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর কথা বলেছে ইসলামী ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতা ও মুফতি আমিনীর নিকটজনদের সঙ্গে।

ইসলামী ঐক্যজোটের সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী ইয়াকুবের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ‘মুফতি আমিনী তাঁর সমকালের আন্দোলন-সংগ্রামে এই যে এতটা পাওয়ারফুল এবং প্রভাবশালী নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন, এর পেছনের শক্তিটা আসলে কী ছিল?’ উত্তরে গাজী ইয়াকুব জানান, ‘আমরা লালাবাগে থেকে যেটা দেখেছি, মুফতি আমিনী রহমতুল্লাহি আলায়হি আসলে নিজের কর্মজীবনকে তিনটি ভাগে ভাগ করে নিয়েছিলেন। ১. দরস ও তাদরিস (ব্যক্তিগত পড়াশোনা ও পাঠদান)। ২. তাজকিয়ায়ে নাফস (আত্মশুদ্ধি)। ৩. রাজনীতি।

‘দিনের বেলা তিনি রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আঞ্জাম দিতেন। সন্ধ্যার পর বসতেন নিজের মাদরাসার পাঠদানে। তারপর ব্যক্তিগত পড়াশোনা ও মুতালাআ। এরপর রাতের গভীরে চলে যেতেন জায়নামাজে। তাঁর এই যে এত পাওয়ারফুল নেতৃত্ব, এর যাবতীয় রসদ তিনি ওইখান থেকেই জোগাড় করে নিতেন।’

ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি তৈয়বও বলেছেন একই কথা। ‘মুফতি ফজলুল হক আমিনীর এই আন্দোলন-সংগ্রামের মূল শক্তি ছিল আসমানি। তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করার পর কোনো মানুষের ওপর ভরসা না করে গভীর রাতে জায়নামাজে বসে কান্নাকাটি করতেন। আল্লাহর কাছ থেকে মনজুর করিয়ে পরদিন নামতেন ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে। এ কারণেই মূলত তাঁর আন্দোলন-সংগ্রামগুলো ফলপ্রসূ হতো।’

মুফতি আমিনীর অভিভাবকত্ব হারানোর পর ইসলামী ঐক্যজোট এই ছয় বছরে কী কী জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে? ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের এ প্রশ্নের জবাবে মুফতি তৈয়ব বলেন, ‘তেমন কোনো জটিলতার সম্মুখীন ইসলামী ঐক্যজোট হয়নি এ পর্যন্ত। তবে আমিনী সাহেবের পরে এর যাঁরা কর্ণধার, প্রত্যেকেই যাঁর যাঁর সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন দলটিকে এগিয়ে নিতে। কীভাবে দেশ ও ইসলামের মঙ্গল হয়, আমিনী রহ.-এর মতো এ চিন্তা এবং লক্ষ্যটা তাঁদেরও অটুট। কিন্তু মুফতি আমিনী তো ছিলেন বিচক্ষণ একজন নেতা, পাশাপাশি উঁচু মাপের বুজুর্গও, তাঁর পরবর্তীতে এখন যাঁরা আছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বে, তাঁদের মধ্যে তো তাঁর এই গুণগুলো তাঁর মতো করে নেই, তাই তিনি যেভাবে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে গেছেন প্রতিটা কর্মকাণ্ডকে, বর্তমান নেতৃত্ব সেটা পারছে না এবং পারার কথাও না।

‘আল্লাহ যদি চান, তবে হয়তো এই গুণগুলো কাউকে দিয়ে দিতে পারেন। যদি দেন, তবে তো দল আগের মতো, আমিনী সাহেব যেভাবে চালিয়েছেন সেভাবে আবার চলবে, নইলে বর্তমান নেতৃত্ব যেভাবে চালাচ্ছেন তাঁদের সাধ্য ও মেধার সবটুকু দিয়ে, সেভাবেই চলবে।’

তবে একই প্রশ্নের জবাব গাজী ইয়াকুব দিয়েছেন অন্যভাবে। তিনি বলেন, ‘মুফতি আমিনীর ইনতেকালের পর এই ছয় বছরে ইসলামী ঐক্যজোটে কী জটিলতা সৃষ্টি হলো তা জানার আগে আমাদের দেখতে হবে এ দেশের ইসলামি অঙ্গনে বা ধর্মীয় পরিমণ্ডলে তাঁর অনুপস্থিতিতে কতটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আজ মুফতী আমিনী বেঁচে থাকলে ধর্মীয় পরিমণ্ডলের হয়তো এই অবস্থা হতো না। একজন মুফতী আমিনীকে দলীয়ভাবে দেখলে এটা তাঁর প্রতি সুবিচার করা হবে না। তিনি ছিলেন এ দেশের প্রতিটা ধর্মপ্রাণ মানুষের নেতা। তাঁকে নির্দিষ্ট কোনো দলের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেখা আমাদের উচিত হবে না।’

আগের সংবাদনেত্রকোনায় দুই যুবকের লাশ উদ্ধার
পরবর্তি সংবাদভোট ছিনিয়ে নেয়া ঠেকাতে কেন্দ্র পাহারার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর