মাদরাসার ছাত্ররা যেভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করে

রাগিব রব্বানি

রাত পোহালেই ১৬ই ডিসেম্বর। বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দীর্ঘ নয় মাস লড়াইয়ের পর বাংলার দামাল ছেলেরা পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে এনেছিল বিজয়ের মালা। প্রতি বছর এ দিনে সেই বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে দেশের নানা জায়গায় নানা ধরনের মানুষের থাকে নানা কিসিমের আয়োজন।

পিছিয়ে নেই এখন কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও। বিজয়ের এই দিন তাঁরাও উদযাপন করেন আয়োজন করে। কেউ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে, কেউ একান্ত নিজের মতো করে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এ দিনটিতে কওমি মাদরাসাগুলোরও শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকে। কোনো কোনো মাদরাসা আয়োজন করে বিশেষ অনুষ্ঠানের। বছরের অন্যান্য দিন পতাকা না টাঙালেও বিজয় দিবসে প্রতিটি মাদরাসার আকাশে পতপত করে ওড়ে লাল-সবুজের পতাকা।

রাজধানীর ফরিদাবাদ মাদরাসার ছাত্র হাসিব ইমতিয়াজ। আগামীকালের বিজয় দিবস কীভাবে উদযাপন করবেন জানতে চাইলে বললেন, বই পড়ায় সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান। কাল কোনো ক্লাস নেই মাদরাসায়। বিজয়ের দিনটা বইয়ের সঙ্গেই কাটাবেন।

জায়েদ আল হাফিজ পড়েন সিলেটের আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর মাদরাসায়। ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর-কে জানালেন, তাঁদের মাদরাসার ছাত্রসংগঠন আল-হেলাল ছাত্র সংসদ প্রতি বছর বিজয় দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। থাকে প্রতিযোগিতামূলক আরও অনেক ধরনের কৌতুকানুষ্ঠান। কিন্তু এ বছর নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে দুই দিনের জন্য মাদরাসা বন্ধ দেওয়া হয়েছে। তাই ক্লাসমেটদের নিয়ে তার আর বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে না। তবে তিনি বিজয়ের এ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চান না। গ্রামের বাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে আয়োজন করেছেন বিজয় উৎসবের। আগামী কাল পুরো দিন কাটবে উৎসবের আমেজে। জানালেন জায়েদ আল হাফিজ।

চট্টগ্রামের পটিয়া মাদরাসায় পড়েন আমজাদ বিন ইউনুস। বিজয় দিবস উপলক্ষে তাদের মাদরাসায় কোনো অনুষ্ঠান হয় কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দিবস কেন্দ্রিক দিনগুলোতে আমাদের মাদরাসায় বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান হয় না, তবে দেশের জন্য জীবনদানকারী শহিদদের জন্য বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

‘আমি যখন মিজানে পড়ি, ছোট্ট ছিলাম। সেই সময়ে বিজয় দিবসে আমাদের ক্লাসে একটি অনুষ্ঠান হয়েছিলো। ক্লাসরুমে ছোট একটি মঞ্চ নিয়ে ছোট একটা অনুষ্ঠান করেছিলাম আমরা ক্লাসমেটরা। বিজয় দিবস নিয়ে ছোট ছোট কচি হৃদয়ের কিছু আশা ও স্বপ্নের আলো সেদিন উদ্ভাসিত হয়েছিল। আজকাল এ ধরনের অনুষ্ঠান তেমন একটা হয় না। চোখেও পড়ে না।’

বিজয় দিবসে মাদরাসার ছাত্রদের ভেতর উচ্ছ্বাস থাকলেও বিজয়ের প্রাপ্তি নিয়ে আছে একরাশ হতাশা। ফাতেহ -এর এক জিজ্ঞাসায় হাসিব ইমতিয়াজ জানালেন তাঁর হতাশার কথা। ‘প্রতিবারই একদিন হুড়মুড় করে বিজয় দিবস আসে। লাল-সবুজের পতাকা ওড়ে আকাশে। এই পতাকার অনেক সম্মান আজ। উৎসবে মাতাল হয় সমাজ, রাষ্ট্র। আবার চলে যায়। সবাই ঘরে ফেরে। রাস্তায়-রাস্তায় পদদলিত হয় লাল-সবুজ। চারিদিকে পরাধীনতা, শৃঙ্খল আর পরাজয়। এখানে বিজয়ের রঙিন উৎসব আছে। আছে মুক্তিযুদ্ধের নামে চেতনাবাজদের উদ্ধত মহড়া। শুধু বিজয় নেই, নেই স্বাধীনতা।’