যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনা চায় তালেবান

ফাতেহ ডেস্ক: আফগানিস্তানে আবারো শক্তি সঞ্চয় করছে তালেবান। গত তিনমাসে নতুন পাঁচটি জেলা নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে জঙ্গি সংগঠনটি। এমন পরিস্থিতিতে বার বার শান্তি প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দিয়েও তালেবানকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারছে না কাবুল। তালেবান বলছে, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় তারা।

এপ্রিলে আফগানিস্তানে বসন্তকালীন অভিযান শুরু করে তালেবান। জঙ্গি সংগঠনটির দাবি, এরপর নতুন পাঁচ জেলার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে সরকারি বাহিনী। সবমিলিয়ে দেশটির ৩৮৮ জেলার মধ্যে ৫৪টির দখল এখন তালেবানের হাতে।

তবে আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তালেবানের দখলে রয়েছে ১১ জেলা। অবশ্য জঙ্গি সংগঠনটির প্রভাব বাড়ার কথা স্বীকার করছে কাবুল।
আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাজিব দানিশ বলেন, যুদ্ধ তীব্র হয়েছে এবং যুদ্ধ ক্ষেত্রের পাশাপাশি বড় শহরগুলোতে হামলা জোরদার করেছে তালেবান। এ কারণেই কাবুল ও অন্যান্য বেশকিছু প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত মাসে তিনদিনের অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব মেনে নেয় তালেবান। এরপরও অস্ত্রবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে শান্তি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। যাতে সমর্থন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেরও। তবে সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি তালেবান।

তালেবানের মুখপাত্র যাইবুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ আমেরিকানরা। তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, শত্রুদের সমর্থন দিচ্ছে, আমাদের দেশ দখল করে আছে, বোমা হামলা চালাচ্ছে। ফলে যুদ্ধ আমেরিকানদের বিরুদ্ধেই। আলোচনার কোন উদ্যোগ নিলে তা হতে হবে সরাসরি তাদের সঙ্গে। তা না হলে কোন ফল আসবে না।

২০১৪ সালে আফগানিস্তান ছেড়ে যায় বেশিরভাগ বিদেশী সেনা। এরপর ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে জঙ্গি সংগঠনটি।

ওয়াশিংটনের আফগান পুনর্গঠন বিষয়ক বিশেষ পরিদর্শক বলছেন, আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশিরভাগ এলাকা তালেবানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আফগান বিষয়ক নীতি।