সরকারি মডেল মসজিদ, ইসলামের কতটা উপকারে আসবে?

মুসান্না মেহবুব

স্থানীয় সরকার ও ধর্মমন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে উভয় মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর উপস্থিতিতে আজ সকালে ধর্মমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা হয়।

৬ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে জেলা পর্যায়ে ৪ তলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে।

দাবি করা হচ্ছে এক সাথে এত মসজিদ নির্মাণের সরকারি উদ্যোগ ইসলামের ইতিহাসে এই প্রথম। কিন্তু এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইসলামের বাস্তবিক কতটা উপকৃতি হবে, বা এ দেশের ইসলামপন্থীরা কতটা লাভবান হবেন এখান থেকে, তা বিশ্লেষণ-সাপেক্ষ একটি বিষয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় পরিসর ও প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সেকুলারদের যে একটা প্রভাব ও দখলদারিত্ব আছে এবং আবশ্যিকভাবে এ কারণে ইসলামপন্থীদের সাথে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপক্ষের যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, সে দখলদারিত্ব ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে এই উদ্যোগ প্রভাব যথেষ্ট প্রভাব রাখবে।

আওয়ামী লীগ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকবে, অনেকেই এমনটা মনে করছেন। ফলে সরকারের সাথে আলেমদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অনেকের কাছে পছন্দনীয় হলেও রাষ্ট্রের সাথে দূরত্ব রাখাটা ভালো কাজ হবে না বলে মনে করছেন ইসলামি ঘরানার বোদ্ধাশ্রেণি। কারণ রাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব থাকলে তাতে ভয়ের সংস্কৃতি চালু হয়। নিরাপত্তা ও জনপরিসরে ইসলামি চর্চায় ব্যাঘাত ঘটে।

আওয়ামী লীগ সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও তাতে ত্রুটির কিছু দেখছেন না বোদ্ধামহল। তাঁদের মতে বাংলা একাডেমি ও শহিদ মিনারসহ বাংলাদেশি সেকুলার প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে পাকিস্তান আমলেই। শহীদ মিনার উদ্বোধন হয় আইয়ুব খানের আমলেই। ফলে উপজেলায় উপজেলায় মডেল মসজিদ আওয়ামী লীগ নির্মাণ করছে বলে এতে দ্বিধার কিছু নেই।

বরং ২০১৩-তে সংঘটিত শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বাংলাদেশে ইসলামঘনিষ্ঠ যে ভাবাবেগের তৈরি হয়েছে, সরকার একে অতিক্রম করতে চাচ্ছে না। বরং জনপ্রিয়তার জন্য একে ব্যবহার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনো গণআন্দোলনের পর এমন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হয়। ভাষা আন্দোলনের পরেও এমন প্রভাব তৈরি হয়েছিল। যার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানি শাসকরাও জনপ্রিয়তা রক্ষার জন্য জাতীয়তাবাদী প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

তবে মডেল মসজিদ নির্মাণের এই উদ্যোগে একটা বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। সেটা হলো, বাংলাদেশে ধর্মীয় নেতৃত্ব জনপরিসর থেকেই পরিচালিত হয়। সরকারের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত কম। মাদরাসায় কী পড়ানো হবে, কী ফতোয়া দেওয়া হবে, জুমার খুতবায় কী বলা যাবে, এসব ক্ষেত্রে সরাসরি সরকারি কোনো নির্দেশনা মানা হয় না। বা সরকারের কোনো প্রভাব কি নিয়ন্ত্রণ নেই এসব বিষয়ে। মডেল মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে ধর্মচর্চার স্বাধীন এ ক্ষেত্রগুলোতে সরকারি হস্তক্ষেপ বিস্তার বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে না তো?

আগের সংবাদএসডিজি অর্জনে তথ্য ঘাটতি বড় বাধা : পরিকল্পনামন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদমাদক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর