
আজ ৩ জানুয়ারি। ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে স্পেনে কয়েক শতাব্দী ধরে শাসন করে আসা মুসলমানদের পতন ঘটেছিল। মুসলমানদের সেই মর্মান্তিক পতন, এর কারণ এবং প্রাসঙ্গিক আরও নানাবিধ বিষয় নিয়ে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী তরুণ আলেম, কবি ও ইতিহাস বিশ্লেষক মুসা আল হাফিজের মুখোমুখি হয়েছিলাম আমরা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হামমাদ রাগিব।
আজ মুসলমানদের উন্দুলুস—স্পেন-পতন দিবস। ১৪৯২ সালের এই দিনে রানী ইসাবেলা ও ফার্ডিনান্ডের বাহিনীর নিকট যুবরাজ আবু আবদিল্লাহর বিশ্বাসঘাতকতায় মুসলিম স্পেনের রাজধানী গ্রানাডার পতন হয়। ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে স্পেনে মুসলমানদের পতন ঘটে?
মুসলিমরা সেখানে শত্রু-মিত্র পার্থক্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। নিজেদের মধ্যে বিবাদের কোনো শেষ ছিল না। রাজ্যসমূহ কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছিল, মুসলিম জনগণ ওলামা থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছিল, দীনি কেন্দ্রগুলো হয়ে উঠেছিল সমাজবিচ্ছিন্ন একেক দ্বীপ। ওলামারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে বিবাদ ও বিতর্কে চারদিক প্রকম্পিত করছিলেন, কিন্তু জাতীয় অস্তিত্বের বিরুদ্ধে কুণ্ডুলি পাঁকানো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ছিলেন বেখবর। রাজনীতিকদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন তাঁরা, ফলে রাজনীতি হয়ে উঠেছিল জাতীয় কল্যাণের বোধ থেকে বিচ্ছিন্ন। জাগতিক উন্নতি ও সুখসম্ভোগকে ভাবা হতো সাফল্য, বস্তুবাদী মানসিকতা জেঁকে বসেছিল মনে-মগজে। ভোগ-বিলাস ও বিত্ত বৈভবকে মনে করা হতো উন্নতি, সামান্য একজন গায়ক বা নাচের মেয়ে কিংবা নকল অভিনেতা হয়ে উঠত প্রভূত প্রভাবশালী। জনগোষ্ঠী হারিয়েছিল রাজনৈতিক চরিত্র; যারা তাদের সর্বনাশ করছিল বারবার, তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে তারা নিশ্চিন্ত হতে চাইত। অথচ এই শাসকরা দীন ও উম্মাহর স্বার্থকে পদদলিত করত প্রতিনিয়ত, নিজেদের গৃহবিবাদ মেটাতে আন্দালুসিয়ার অস্তিত্বের শত্রুদের শরণাপন্ন হতো আর তাদের পরামর্শকে গ্রহণ করত নিজেদের কর্মনীতি হিসেবে।
অপরদিকে ইউরোপে নতুন চেতনাবোধ এবং মুসলিম-বিরোধী সংহতি আরো ধারালো হচ্ছিল। ফ্রান্স, লিয়ন ও ক্যাস্টাইলে শক্তিশালী শাসকের উত্থান ঘটে। তারা নিজেদের দূরত্ব কমিয়ে আন্দালুসিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্য রচনা করে। মুসলিমদের সাংস্কৃতিক যে শক্তি ও শৈর্য ছিল, তাকে নিবীর্য করা হয় নানাভাবে। মুসলিমদের সামরিক প্রাধান্যও ততদিনে নড়বড়ে হয়ে যায়। ফলে নৌশক্তিতে খ্রিস্টিয় ইউরোপ প্রবল হয়ে ওঠে। মুসলিমদের যুদ্ধপ্রণালী চলে যায় তাদের নখদর্পনে। মোটকথা মুসলিমরা নিজেদের সৃষ্টিগুলো হারাচ্ছিল, অপরদিকে খ্রিষ্টানরা সৃষ্টির দিকে এগুচ্ছিলো। আর এভাবেই একটা শক্তির কাছে অবক্ষয়গ্রস্থ মুসলিম স্পেনের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে ওঠে।
শত বছর ধরে মুসলিম স্পেন শুধু আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে থেকেছে। দেশে ও দেশের বাইরে ইসলামের যে প্রাণশক্তি, তাকে ছড়ানোর চেষ্টা থামিয়ে দিয়েছে; অমুসলিমদের মধ্যে দাওয়াত এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংস্কার ও পরিশুদ্ধির প্রয়াসও বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তার আভ্যন্তরীণ শক্তি একেবারে ম্রিয়মান হয়ে যায়। এ রকম একটি বাস্তবতায় স্পেনের বিপর্যয় সংঘটিত হয়। এটা অতর্কিতে ঘটেনি, জানান দিয়েই এবং নানা পর্ব অতিক্রম করেই ঘটেছে। বিশ্বসঘাতক শুধু আবু আবদিল্লাহ ছিল না, বিশ্বাসঘাতক হয়ে উঠেছিল তখনকার স্পেনের ক্ষমতা আর রাজনীতি। আবু আবদিল্লাহ ছিল সে রাজনৈতিক বাস্তবতার এক কদর্য ফসল।
ইউরোপিয়ানদের সাথে মুসলিম সভ্যতার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ক ঠিক কেমন ছিল, মুসলমানরা তাদের ওপর কীভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল?
সম্পর্কটা প্রধানত ছিলো দ্বান্দ্বিক। মুসলিমদের কখনোই ভালোভাবে গ্রহণে প্রস্তুত ছিল না ইউরোপিয়ানরা। গ্রহণ করেছে তখন, যখন অন্য উপায় ছিল না। রাজা রডারিক ও গথিকদের বর্বরতা থেকে মুক্ত হবে বলে স্পেন আমন্ত্রণ করেছিল মুসলিমদের।
মুসলিম শাসন স্পেনে অভূতপূর্ব সুফল দিয়েছিল জনগণকে। যা ইতিপূর্বে অকল্পনীয় ছিল। ফলে মুসলিমদের তারা গ্রহণ করেছে। জাগতিক স্বার্থেই গ্রহণ করেছে। এমনকি মুসলিমদের ভাষা ও সংস্কৃতিকেও এ কারণে অনেকে গ্রহণ করেছে। কিন্তু যখনই খ্রিস্টবাদ ও ইসলাম মুখোমুখি হয়েছে, স্পেনের খ্রিস্টানদের আবেগ খ্রিস্টবাদের পক্ষে কাজ করেছে। ফলে শাসকরা সর্বোচ্চ সদ্ভাব রেখে খ্রিস্টানদের পরিচালনা করতে চাইতেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা যতটা যত্নবান ছিলেন, ততটা যত্নবান ছিলেন না তাদের মধ্যে ইসলামপ্রচারে। কোনো রকম শক্তি প্রয়োগ না করেই জ্ঞান, যুক্তি, চরিত্র ও হৃদয়বৃত্তি দিয়ে নাগরিকদের হেদায়েতে আনার চেষ্টা ততটা করা হয়নি, যতটা করা হয়েছে তাদের সুখী ও ধনবান বানাতে। ফলত স্পেনের লোকেরা শিক্ষিত হয়েছে, সুখী হয়েছে, বিত্তবান হয়েছে, কিন্তু যারা তাদের জন্য এ উপহার নিয়ে এলো, তাদেরকে পুরোপুরি আপন করে নিতে পারেনি।
ধর্ম এখানে ছিল প্রধান বাধা। যখন বাইরের খ্রিস্টীয় শক্তি মুসলিমদের বিপরীতে ধেয়ে এসেছে, তখন তারা খ্রিষ্টীয় শক্তির সাথে নিজেদের আত্মীয়তা খুঁজে পেয়েছে। মুসলিমদের হয়ে শক্তি প্রয়োগ করেনি।
মুসলিম আমলে স্পেন ছিল ইউরোপের প্রধান শক্তি। মধ্যযুগের ইউরোপের শ্রেষ্ঠতম নৃপতি সম্রাট শার্লেমন স্পেনিশ সম্রাট আবদুর রহমানের সমান ছিলেন না। প্যরিস, লন্ডন বা রোমের মতো শহর কোনোভাবেই কর্দোভা, গ্রানাডার সমান ছিল না। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি বা ইটালি স্পেনের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেনি। তাদের অবস্থান ছিল সব দিক থেকে পশ্চাতপদ। ফলত ইউরোপীয় দেশসমূহের সবচে’ সচেতন নাগরিক যারা, তারা স্পেন থেকে শিক্ষা, সভ্যতা ও সমৃদ্ধির আলো গ্রহণে ছিলেন উন্মুখ। স্পেনিশ মুসলিমদের ছাত্র হতে তাদের আপত্তি ছিল না। তারা বরং জ্ঞান ও সভ্যতার জন্য স্পেনিশ মুসলিমদের আমন্ত্রণ জানাতেন স্বদেশে। ব্রিটেনের রাজা জর্জ দ্বিতীয় মুসলিম সম্রাট হিশাম দ্বিতীয়ের কাছে চিঠি লেখেন, যেন তিনি ব্রিটেনে অজ্ঞতা ও বর্বরতার অন্ধকারে শিক্ষা বিস্তারের জন্য কিছু শিক্ষক পাঠান। পাদ্রী স্যালভেস্টার তো আরবি ও ইসলামি সংস্কৃতি-সভ্যতা অবলম্বনের আন্দোলন শুরু করে দেন। যাতে সাড়া দিয়েছিল ইউরোপের অগ্রসর তারুণ্য।
মুসলিমদের থেকে ইউরোপের এই গ্রহণ ছিল নিজেদেরই প্রয়োজনে। এটা করতে গিয়ে তারা নিজেদের সভ্যতা ও ধর্মকে ভুলে যায়নি। বরং নিজেদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য মুসলিমদের কাছ থেকে গৃহীত শিক্ষাকে হাতিয়ার বানিয়েছে।
আপনি অনেক জায়গায় দাবী করেন, ইউরোপ মুসলিম সভ্যতার আলোকেই গড়ে উঠেছে, এই দাবি কি বাড়াবাড়ি নয়?
মুসলিম সভ্যতার আলোকে ইউরোপ গড়ে উঠেছে, এ কথা বলা যায় না। এটি অনৈতিহাসিক। আমি যা বলি, সেটা হচ্ছে মধ্যযুগের নিরন্দ্র অন্ধকার থেকে, বর্বরতা ও অজ্ঞতা থেকে, বন্য যাজকতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্র থেকে মুক্তির যে দরোজা উন্মুক্ত হয়েছিল, সেটা মুসলিমদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রভাবেই। তারা যে জ্ঞানের পথে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছিল, তারা যে বিজ্ঞান সাধনায় নিয়োজিত হয়েছিল, তারা যে গ্রীক দর্শন ও বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত হয়ে নতুন দৃষ্টি ও দৃষ্টিকোণ লাভ করেছিল এবং যে এনলাইটেনমেন্টের মাধ্যমে রেনেসাঁ ও রিফর্মেশন অর্জন করেছিল, এর মূলে আছে মুসলিম সভ্যতার শিক্ষা ও প্রেরণা। দান ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য।
স্পেনের ইতিহাস চর্চা কি জরুরি? কেন জরুরি?
ইতিহাসচর্চা তো এমনিতেই জরুরি। উপরন্তু মুসলিম স্পেনের ইতিহাস অবধারিতভাবে জরুরি। কারণ, যে বিস্ময়কর উত্থান ও মর্মান্তিক পতন সেখানে রয়েছে, যুগ-যুগান্তরের মুসলিম রাষ্ট্র সমূহের জন্য একটি উন্মুক্ত কিতাব, একটি ব্যাপক পাঠশালা। এখানে শেখার অধ্যায় এতো বেশি, যা অন্য কোথাও এভাবে পাওয়া যায় না। বর্তমান মুসলিম জাহানে সেই সব রোগই রাজত্ব করছে, যা স্পেনে আমাদের সর্বনাশ নিশ্চিত করেছিল।
স্মৃতি চর্চার ক্ষেত্রে দিবস ও চিহ্ন অনেক জরুরি। যেমন ভাষা আন্দোলন একুশে ফেব্রুয়ারি ও শহীদ মিনারের ভিতর দিয়ে টিকে আছে, স্পেনের ক্ষেত্রে এমন কোন দিবস ও প্রাসঙ্গিকতা কিছু আছে?
তারেক বিন জিয়াদের স্পেন বিজয় বিশ্বের ইতিহাসের মোড় বদলে দিয়েছিল চিরতরে। সে দিনটি ছিল আসলে ইউরোপের মুক্তি ও নবযুগের জন্ম দিন। সেখানে মুসলিম সালতানাতের পতনলগ্নটিও বিশ্বইতিহাসের আরেক ধারা রচনা করে। পৃথিবীর অাধিপত্য তারপর পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুকূলে চলে যেতে থাকে। তারপরও ইতিহাস মন্থনে দিবস-সর্বস্বতাকে আমি ভালো প্রবণতা মনে করি না।
স্পেন একটা পর্যায়ে স্বতন্ত্র মুসলিম রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছিল, বাংলাদেশও এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন একটি ভূখণ্ড, বাংলাদেশের জন্য কি এই অঞ্চলে স্পেনের মতো সভ্যতাগত বিশেষ ভূমিকা পালন করা সম্ভব?
স্পেন শুধু স্বতন্ত্র মুসলিম রাষ্ট্র ছিল না, গোটা দুনিয়ায় ইসলামি মিল্লাতের দ্বিতীয় প্রধান শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। ৭১৪ থেকে নিয়ে ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ অবধি উমাইয়া খেলাফতের অধীনে থাকলেও মুসলিম বিশ্বে স্বতন্ত্র শক্তি হয়ে উঠে তখনই। ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তা অব্যাহত থাকে ১০৩১ খ্রিস্টাব্দ অবধি। কত দীর্ঘ সময়! এরপর সাম্রাজ্য ভেঙ্গে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সমূহ দাঁড়ায়। সেগুলোও কম শক্তিমান ছিলো না। বনু জাহওয়ার, বনু জিরি, বনু আব্বাদ, তারপর মুরাবিত সালতানাত, তারপর মুওয়াহহিদুন সালতানাত, সর্বশেষে বনু নাসির সালতানাত। এগুলোর ধরন, প্রকৃতি, প্রভাব ও ব্যাপ্তির সাথে বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের কালগুলো তুলনীয় নয়।
স্পেনে প্রধানত জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা-সংস্কৃতির মশালবাহী হিসেবে মুসলিমরা অগ্রসর হন, বাংলাদেশে অগ্রসর হন মানবপ্রেম, সাম্য, সুফিসাধনা, সেবা ইত্যাদির হাত ধরে। এখানে ইসলামে আসে যে শ্রেণীটা, ওরা শুরুতেই ছিল একেবারে অন্ত্যজ। শিক্ষা-সংস্কৃতির জায়গায় ছিল নিতান্তই অপ্রস্তুত। স্পেনের মতো জ্ঞানতাত্তিকদের পরিচর্যা পায়নি বাঙালি মুসলিম। ফলে কর্ডোভা, সেভিল, টলেডোর তুল্য কোনো জ্ঞানকেন্দ্র এখানে তৈরি হয়নি। সেই মানের বিশ্ববিদ্যালয়ও গড়ে উঠেনি। বরং এ ভূখণ্ডে বিস্তৃতি পেয়েছিল খানকা, লঙ্গরখানা, মক্তবধর্মী মাদরাসা।
বাংলা-বিহার -উড়িষ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়া যায় মাত্র একটি। সেটাও বেশি দিন নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি। এখানে রাজনৈতিকভাবে কোনো প্রবল শক্তি দাঁড়ায়নি । সুযোগও ছিল কম। অতীতে কখনো আন্দালুসিয়ার রং, গন্ধ এখানে আসেনি। এখনও বাঙালি মুসলিম এমন সম্ভাবনা থেকে যোজন যোজন দূরে।
ইউরোপে পুনরায় ইসলামি জাগরণের সম্ভাবনা আছে? আপনি কী মনে করেন?
ইসলামের জাগরণ ইউরোপে অনিবার্য। কিন্তু সেটা হতে দিচ্ছি না আমরা মুসলিমরাই। ইসলাম যে মুসলিমের বিবরণ দেয়, আমরা সে মুসলিম হতে পারিনি। আমাদের জীবনে ইসলাম তালাশ করলে পাওয়া যায় এমন কিছু, যা মূলত ইসলাম নয়। ইসলামের ব্যবহারিক চর্চা যত বাড়বে, মুসলিমরা জীবনযাপনে ইসলামের সত্যিকার উপস্থাপন যতই করবে, ইসলামের জাগরণ ততই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে। শুধু কথা বা কথিকা দিয়ে ইসলাম বিজয়ী হয় না, হতে পারে না। বলতে চাইছি, ইউরোপ পিপাসার্ত, কাতর, উন্মুখ যে আবে জমজমের জন্য, সে আবে জমজম ইসলাম। তারা এতে আত্মার অবগাহনে এগিয়ে আসবে, আসতে প্রস্তুত, যদি আমরা মুসলিমরা বাধা না দিই। মুসলিমরা বাধা দিই তখন, যখন নিজেদের আচরণ দ্বারা ইসলাম সম্পর্কে ভুল ও বিকৃত ধারণা প্রচার করি। বাধা দিই তখন, যখন আমাদের কারণে ইসলামের প্রতি মানুষ বিরূপ হয়, অনাগ্রহী হয়।
ফাতেহকে সময় দেওয়ার জন্য অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা।
তোমাদেরও অনেক ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
