
রাগিব রব্বানি
গত ৩০ ডিসেম্বর নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভোটপ্রদানে বাকবিতণ্ডার জের ধরে ওই রাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন পারুল নামের এক নারী। পারুলের অভিযোগ, নৌকা মার্কার সমর্থকরা তাঁকে ধর্ষণ করেছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। প্রতিবাদের জন্য অনেকে রাস্তায়ও নেমে এসেছেন।
ইসলামি ঘরানার লেখক ও কথাসাহিত্যিক সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর আজ তাঁর এক ফেসবুক-স্ট্যাটাসে পারুল ধর্ষণ এবং অন্যান্য পরিস্থিতি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে লিখেছেন, ‘যেই দেশে ‘প্রকাণ্ড গণতন্ত্র’ থাকা সত্বেও ভিন্ন দলে ভোট দেয়ার অপরাধে নারী গণধর্ষণের শিকার হয়; সেই দেশে প্রতিবাদী নেতার নাম হিরো আলম। হিরো আলম আমার নেতা!’
শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ ধর্মীয় নানা ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ-আন্দোলন করলেও সমাজের বিভিন্ন ক্রাইসিস ও অপরাধের প্রতিবাদে খুব একটা উদ্যোগী হন না—এটা অনেকেরই অভিযোগ। এ অভিযোগের সূত্র ধরে মাদরাসা-পড়ুয়া তরুণরা প্রশ্ন তুলছেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে আলেমরা কেন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেন না?
শারাফাত শরীফ নামে একজন কওমি পড়ুয়া তরুণ আলেম আজ তাঁর ফেসবুক-স্ট্যাটাসে লিখেছেন, এক রাত ‘গবেষণা’য় বের করা ১৩ দফা নিয়ে আপনারা মাঠ কাঁপান। রক্ত ঝরান। ইসলাম হেফাজত করেন। কিন্তু রাত ১২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ধর্ষিত হওয়া এক নারীর জন্য, এক মায়ের জন্য আপনারা কিছুই করতে পারেন না! আপনাদের ‘ইসলাম’ আর ওই মায়ের ‘ইসলাম’-এর মাঝে তফাৎ কেবল মাত্র চার ঘন্টার! যখন নোয়াখালীর এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তখন আপনাদের সহমর্মিতা উথলে উঠেছিল কেবল। এখন সেই সহমর্মিতা কি আত্মহত্যা করেছে?’
মাদরাসা-পড়ুয়া আরেক তরুণ ফারুক ফেরদাউস লিখেছেন, ‘উত্তরাধিকারের সম্পদে নারীকে পুরুষের সমান ভাগ দিয়ে আইন হলে যারা কুরআন নিয়ে মাঠে নামেন, নারী গণধর্ষণের শিকার হয়ে মরে গেলে তারা কোথায় থাকেন? রাষ্ট্রের মৌন সহায়তার ধর্ষণ হলে, খুন হলে, হত্যা ধর্ষণের পর রাষ্ট্র ও আইন নিষ্ক্রিয় থাকলে কি কুরআনের বিধান লঙ্ঘিত হয় না?’
ফারুক ফেরদাউসের এই স্ট্যাটাস অন্যান্য মাদরাসা-পড়ুয়া তরুণদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মেধাবী ও প্রতিভাবান অনেককে দেখা যায়, কথাগুলো কপি করে নিজের ওয়াল থেকে পোস্ট করেছেন। ফলে স্ট্যাটাসটি আজ সারা দিন ধরে মাদরাসাপড়ুয়াদের ফেসবুক-টাইমলাইনে ঘুরছে।
ফারুক ফেরদৌসের উত্থাপিত এ প্রশ্নের সূত্র ধরে ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি তৈয়বের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম, রাষ্ট্রের মৌন সমর্থনে ঘটিত এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে আলেমরা অপেক্ষাকৃত কম সোচ্চার কেন?
উত্তরে তিনি বলেন, ‘আসলে আলেমরা যে এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার না, এমন না। মসজিদের মিম্বর, মাহফিলের মঞ্চ—নানা জায়গা থেকে তাঁরা এর প্রতিবাদ করছেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করছেন। এটা অনেক বড় ব্যাপার। তবে হ্যাঁ, ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যুর মতো এটাকে ইস্যু বানিয়ে আলাদাভাবে আন্দোলন করছেন না, এটা ঠিক। এর মূল কারণ হচ্ছে, পরিস্থিতি। পরিবেশ-পরিস্থিতির নেতিবাচকতার কারণে অনেক সময় তাঁরা এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে পারেন না। তবে সদিচ্চারও খানিকটা অভাব আছে, আমি স্বীকার করি। এই অভাবটা আমাদের দূর করা প্রয়োজন।’
