কওমী স্বীকৃতি: হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করছি না, মুফতি নুরুল আমীন

জুনায়েদ ইশতিয়াক :

বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র কওমি মাদরাসার শিক্ষার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। ১৩ আগস্ট সোমবার মন্ত্রী সভায় এই সংক্রান্ত বিলটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী পূর্ণ হয়েছে। এতে জাতীয় পর্যায়ে একটা বিশাল স্বীকৃত জনশক্তি যোগ হবে। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আসায় উচ্চশিক্ষায় প্রতিযোগিতার মান ও পরিমাণ বাড়বে বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘আল্লামা আহমদ শফী সাহেবের নেতৃত্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের প্রচেষ্টায় এই স্বীকৃতির দাবী পূর্ণ হল। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট অংশ এতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব এতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।’জানান স্বীকৃতি কার্যক্রমের অন্যতম সমন্বয়ক বেফাকের সহকারী মহাসচিব মুফতি নুরূল আমীন।

এতে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ উন্মুক্ত হল কিনা এমন প্রশ্নে মুফতি নুরূল আমিন জানান, সরকার আলেমদের সব দাবী মেনেই স্বীকৃতি দিয়েছে। পুরোপুরি দেওবন্দি মানহাজের ওপর থাকবে কওমি মাদরাসা, শীর্ষ আলেমদের এমন অবস্থানের প্রতি সম্মান জানিয়েছে সরকার। ‘ফলে আপাতত আমরা হস্তক্ষেপের কোন আশঙ্কা করছি না।’

এই স্বীকৃতির গুরুত্বটা কোথায় এই প্রসঙ্গে মুফতী নুরূল আমীন জানান, এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে কওমি শিক্ষার স্বীকৃতিটা আসল। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ধর্মীয় কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগও প্রসারিত হল। তবে এই স্বীকৃতি পার্থিব কোন স্বার্থে ব্যবহারিত হোক, সেটা আমরা চাইনা। সেজন্য সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা আছে। এ উদ্দেশ্যের জন্য সেখানেই যেতে হবে।

অনেকে বলছেন, স্বীকৃতি লাভের পর আলিয়া মাদরাসায় ইলমি ও আমলি পতন ঘটেছিল, কওমি মাদরাসায় যাতে এমন কিছু না ঘটে, আমরা সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। আদর্শিক বিষয়ে শিথিলতা, নানা রকম হস্তক্ষেপ ও পার্থিব স্বার্থে স্বীকৃতিকে ব্যবহারের কারণে আলিয়া মাদরাসায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।আমরা এসব থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করবো। ‘ যোগ করেন মুফতি নুরূল আমিন।

আগের সংবাদমাস্টার্সের সমমান পেলো দাওরায়ে হাদিস , মন্ত্রিসভায় আইন অনুমোদন
পরবর্তি সংবাদকওমি সনদের মান আইন অনুমোদন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আল্লামা আহমাদ শফীর অভিনন্দন